পাশাপাশি পুঁজিবাজারের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের দিকে জোর দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব ও মো. নাফিজ আল তারিক, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামসহ এক্সচেঞ্জটির পরিচালক, সদস্য, ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আইপিও প্রক্রিয়া ও সিকিউরিটিজ আইন সহজ করার দাবি জানান।

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান কমিশন নতুন এসেছে, তাদের কাজের মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস সময় দিতে হবে। অতীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পালন করাই স্টক এক্সচেঞ্জের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কমিশন এরই মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর অর্পিত ক্ষমতাচর্চার বিষয়ে জোর দিয়েছে।’

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডিমিউচুয়ালাইজেশনের (মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথক্‌করণ) সময় বলা হয়েছিল যে পাঁচ বছর পর এটি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু ১১ বছর হয়ে গেলেও সেটি করা হয়নি। আমাদের দাবি থাকবে এটি যাতে দ্রুতই করা হয়।’ পাশাপাশি সিডিবিএলকে তালিকাভুক্ত ও সিসিবিএলে ডিএসইর মালিকানা আরো বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে নিয়ন্ত্রণমূলক মানসিকতা পরিহার করে সমাধানমুখী মনোভাব নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ ত্রৈমাসিক রিপোর্টিংয়ের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক হিসাবমান (আইএএস) ৩৪ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বা কনডেন্সড প্রতিবেদন চালু করা হবে। ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আকৃষ্ট করতে আইপিও বিধিমালা পর্যালোচনা ও তা সহজ করতে আগামী সপ্তাহ থেকেই ডিএসই, আইসিএবি ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সঙ্গে যৌথ বৈঠক শুরু করব আমরা। কাগজনির্ভরতা কমিয়ে এক্সবিআরএল ও এক্সএমএল-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।’

গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্রোকারদের ডিজিটাল ট্রেডিংয়ে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে মাসুদ খান আরো বলেন, ‘ধাপে ধাপে টি+১ সেটলমেন্ট প্রবর্তন, আইপিও ও সার্ভিল্যান্সের ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জকে আরো ক্ষমতায়ন ও মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের অনিয়ম দূর করতে বিশেষায়িত আদালত গঠনের জন্য কাজ করবে কমিশন। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মূলধনি মুনাফার কর-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে এনবিআরের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর্থিক শিক্ষায় জোর দেয়া হবে। ছয় মাস বা এক বছর পর অংশীজনদের মুখোমুখি হয়ে এ সময়ের মধ্যে আমরা কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং কী কাজ করেছি সে বিষয়ে জবাবদিহি করতে চাই। পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিনিয়োগকারী সব পক্ষকে একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।’