এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহতভাবে কমছে। চলতি মাসেও আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শীর্ষ আমদানিকারক অঞ্চলটিতে খুচরা বাজারে জ্বালানির দাম চড়া। ঊর্ধ্বমুখী ব্যয় সামাল দিতে ব্যবহার কমাচ্ছে সংশ্লিষ্ট খাতগুলো।

রেফিনিটিভ অয়েল রিসার্চের দেয়া তথ্যমতে, সেপ্টেম্বরে এশিয়ার দেশগুলো দৈনিক ২ কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে জ্বালানি তেল আমদানি করছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ৪৯ লাখ এবং জুলাইয়ে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।

চীনে বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। এশিয়ায় আমদানি কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে দেশটি। রেফিনিটিভের দেয়া তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে দেশটি দৈনিক প্রায় ৯১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করছে। আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ৯৫ লাখ ব্যারেল।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র সরবরাহ সংকট চলছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই চাহিদা বাড়তি থাকার কথা। কিন্তু বাজারদরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে এশিয়া অঞ্চলে চাহিদা নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে।

গতকাল দিনের শুরুতে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে ৭ সেপ্টেম্বর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ ডলার ৪০ সেন্টে স্থির হয়। কিন্তু গতকাল তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ ডলার ৫৩ সেন্টে।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। ওই মাসে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল ১২০ ডলারের বেশি দামে লেনদেন হয়েছে। এরপর এশিয়ার বাজারে পণ্যটির চাহিদা কমতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত চাহিদায় পুনরুদ্ধার ঘটেনি।

কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছলেও এরপর কমতে শুরু করে। কিন্তু এশিয়ার অনেক শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশেই খুচরা বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখীই রয়েছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামাল দিতে ব্যবহারকারীরা জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার কমিয়ে এনেছেন। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেয়া মুদ্রাসংকোচন নীতি অর্থনীতির গতিকে শ্লথ করে দিয়েছে। এটিও চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 গত জুনের মাঝামাঝি চীনে ডিজেলের দাম বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছে। প্রতি লিটার দাঁড়ায় ৯ দশমিক শূন্য ৩ ইউয়ান বা ১ ডলার ৩০ সেন্টে। বর্তমানে দাম কমে লিটারপ্রতি ৮ দশমিক ১০ ইউয়ানে নামলেও তা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়েই অবস্থান করছে।

ভারত এশিয়ার দ্বিতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল আমদানিকারক। পাঁচ মাস ধরে দেশটিতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত পরিশোধন কেন্দ্রগুলোই মূলত সিংহভাগ জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমাতে দেশটির সরকার উদ্যোগ নেয়ায় বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।

এ বছরের মে মাসে মুম্বাইয়ে ডিজেলের দাম ১০৬ রুপিতে পৌঁছার মাধ্যমে রেকর্ড স্পর্শ করে। তবে এ মাসে দাম কমে লিটারপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ রুপি বা ১ ডলার ১৯ সেন্টে নেমেছে।