ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিস চলতি বছরের জন্য ধাতব পণ্যের বৈশ্বিক বাজারদর পূর্বাভাস কমিয়েছে। পাশাপাশি কমানো হয়েছে খনিজ পণ্যের মূল্য পূর্বাভাসও। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা ও দুর্বল চাহিদার কারণেই এ পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ধাতব পণ্যের চাহিদায় ভাটা পড়ছে। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বর্ণ, রুপা, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামাসহ প্রধান ধাতব পণ্যের বাজারে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মুডিসের ভাইস প্রেসিডেন্ট বারবারা ম্যাটোস বলেন, বেইজ মেটাল, কয়লা, আকরিক লোহা ব্যবহারের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশ চীন। এছাড়া বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশও চীন। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি ধাতব ও খনিজ খাতের চাহিদাকে ধসের মুখে ফেলবে।
গত বছরের শেষ এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। বর্তমানে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটছে। বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে বলে মনে করছেন বারবারা।
দাম নিম্নমুখী হয়ে ওঠার প্রত্যাশার পাশাপাশি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানিয়েছে মুডি’স। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, চলতি বছরের ১২ মাসই বেইজ মেটালের সরবরাহ থাকবে সংকুচিত। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। সরবরাহ চেইনে সংকট উৎপাদন খাতকে অনেক বেশি বাধাগ্রস্ত করেছে।
মূল্যস্ফীতির বিপরীতে প্রায়ই আপত্কালীন বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় স্বর্ণ। মুডি’স বলছে, বন্ড ইল্ড ও সুদের হার বৃদ্ধি স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ মূল্য বাড়াচ্ছে। ধাতুটি বিনিয়োগে কোনো রকম মুনাফা না থাকায় এটির মূল্য কমছে। রুপাও বাজারে একই ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। যদিও শিল্প খাতে ব্যবহার বাড়ার কারণে ধাতুটির চাহিদা প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
বেইজ মেটালের বাজার নিয়ে মুডি’স বলছে, গত বছরের শেষ দিকে এসব ধাতুর দাম চড়া হয়ে উঠলেও বর্তমানে তা কমতির দিকে। যদিও এসব ধাতুর দাম এখনো অতীতের যেকোনো সময়ের সর্বোচ্চে অবস্থান করছে। গত কয়েক বছরে এসব পণ্যের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য ছিল না। বর্তমানেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলে অ্যালুমিনিয়াম, তামা, নিকেল, দস্তার সরবরাহ আগামী ১২ মাসে অত্যন্ত সংকুচিত থাকবে।
আকরিক লোহার ক্ষেত্রে মুডিসের প্রত্যাশা, ইস্পাত উৎপাদন প্রধান উপকরণটির সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে। তবে স্থিতিশীল সরবরাহ বাজারদরের নিম্নমুখিতা ঠেকাতে যথেষ্ট হবে বলেও মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ চীন ও উন্নত দেশগুলোয় আকরিক লোহার চাহিদায় ভাটা পড়েছে।










