সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি নোভারটিস। মূলত বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন করে ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয়ের কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

সিঙ্গাপুরে নোভারটিসের ওষুধ উৎপাদন কেন্দ্রে ২০২৬ সাল নাগাদ বর্ধিত অংশের কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন কারখানায় ত্বক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের থেরাপিউটিক অ্যান্টিবডি ওষুধ তৈরি করা হবে। বর্ধিত এ কেন্দ্রের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ডিজিটাল ও অটোমেশন সলিউশন ব্যবহার করা হবে বলেও কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে।

এশিয়ার এ উৎপাদন কেন্দ্রে বছরে ১৪০ ব্যাচ ওষুধ তৈরি করা হয়, যা প্রায় ৯০ লাখ পরিপূর্ণ ডোজের সমান। ২০২৬ সালে নতুন কার্যক্রম শুরু হলে উৎপাদনের হার দ্বিগুণ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নোভারটিস জানিয়েছে, উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মরতদের এক থেকে দুই বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মাধ্যমে আরো দক্ষ করে তোলা হবে। সম্প্রসারিত অংশের মাধ্যমে বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন স্তারের শতাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির অপারেশনস বিভাগের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন ল্যাং।

নেভারটিসের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের উপপ্রধানমন্ত্রী হেং সুই কিয়েট। তিনি জানান, কভিড-১৯ মহামারীতে ভ্যাকসিন ও থেরাপিউটিকের গুরুত্ব বেড়েছিল। এসব প্রতিষেধক যদি যথাসময়ে ব্যবহার না করা হতো তাহলে ওই সময় দেশে মৃত্যুহার বেড়ে যেত এবং অর্থনীতিতে সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতো।

২০২৩ সালে নোভারটিসের উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ৯০ লাখের বেশি ডোজ ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বাত ব্যথা ও আর্থ্রাইটিসের মতো রোগের ওষুধ রয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে তার প্রায় অর্ধেকই বায়োথেরাপিউটিকস।

হেং সুই জোর দিয়ে জানান, বায়োফার্মা সেক্টরের উৎপাদন আরো টেকসই করতে হবে। উৎপাদিত পণ্য যেন নির্ধারিত জনগোষ্ঠীর কাজে আসে সে বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

নোভারটিসকে জিন, সেল থেরাপি ও আরএনএ থেরাপিউটিকসের মতো উন্নত পদ্ধতি তৈরিতে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে উৎসাহ প্রকাশ করেছেন তিনি।