চীনের রফতানি খাতে চলতি বছরের জুনে সংকোচন অব্যাহত। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোয় সুদহার বাড়ানোর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশটির রফতানি খাতে। দেশটির অভ্যন্তরেও উৎপাদিত পণ্য ক্রয়ের চাহিদা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশটিতে মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার পথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এশিয়ার বাণিজ্য খাতেও। খবর রয়টার্স।

চীন থেকে বিদেশে চালান বার্ষিক ৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। মে মাসে সংকোচন হয়েছিল ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারির পর জুনের পতন সর্বোচ্চ। ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সরিয়ে নেয়ার পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইউরোপ ও এশিয়ার বাণিজ্য। যদিও খুব অল্প সময়েই ঝিমিয়ে পড়ে প্রত্যাশার সূচক। 

চীনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে সাম্প্রতিক মাসগুলোয়। নীতিনির্ধারকরা এখন মন্থরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া নিয়ে শঙ্কিত। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা। কিন্তু কারখানা, স্থাপনা ও রফতানিনির্ভর খাতগুলোয় প্রত্যাশিত গতি না থাকায় সুবিধা করে উঠতে পারছে না। দেশের বাইরে ও ভেতরে চাহিদা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে টানা তৃতীয় মাসের মতো রফতানি কমেছে জুনে। কেমিক্যাল, ফেরাস মেটাল ও শিল্প-কারখানায় প্রক্রিয়াকরণ কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। যদিও পরিষেবা খাত, রেল ও উড়োজাহাজ পরিবহন, আবাসন ও রেস্তোরাঁ খাত এখনো সম্প্রসারণের দিকে। রিয়েল এস্টেট খাতের সূচক এখনো নিম্নমুখী। বর্তমান দুনিয়ায় ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও তা নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির ঘটনা চাপ তৈরি করেছে মানুষের ক্রয়সীমার ওপর। বাণিজ্যিক কার্যক্রমে মন্থরতার অর্থ তার প্রভাব নিশ্চিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে দেশটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩ শতাংশ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত এক দশকে সচরাচর যে প্রবৃদ্ধি ঘটে, এটা তার অর্ধেক। অর্থাৎ খুব স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে অর্থনৈতিক ঘাটতি।

সোসাইটি জেনারেল পূর্বাভাস দিয়েছিল, জুনে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার ব্যাপারে। এদিকে জুনে আমদানি ৪ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। মে মাসে আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে আমদানি খাতে।

জুনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভোক্তাপণ্যে। উৎপাদিত মূল্য কমেছে সাত বছরের তুলনায় সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। রফতানি খাতে দুর্বলতা আরো প্রমাণিত হয় দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে। ফিচ রেটিং অনুসারে, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের রফতানি গত বছরের এ সময়ের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ পতন ঘটেছে। চীনের অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন লি কিয়াং। চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজার গতিশীল করার জন্য তিনি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে জানিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জন্ম নিয়েছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।