চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক অস্থিরতা ধাতুটির বাজারে ঝুঁকি বাড়াবে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।

সাংহাই মেটাল মার্কেটের দেয়া তথ্যমতে, গত মাসে চীনে তামা ক্যাথড উৎপাদনের প্রত্যাশা ছিল ৮ লাখ ৯৫ হাজার টন। কিন্তু সেখানে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪১ হাজার ৭০০ টন। ডিসেম্বরের তুলনায় উৎপাদন ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। চলতি মাসে ৮ লাখ ৯৯ হাজার টন উৎপাদনের প্রত্যাশা রয়েছে।

ফিচ গ্রুপের ফিচ সলিউশনস কান্ট্রি রিস্ক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ বিভাগ জানায়, চলতি বছর তামার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। প্রতি টনের গড় মূল্য ৮ হাজার ৫০০ ডলার স্পর্শ করতে পারে। চীনের মূল ভূখণ্ডে কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ধাতুটির দাম বেড়েছে।

ফিচ সলিউশন বলছে, ১৮ জানুয়ারি তামার দাম টনপ্রতি ৯ হাজার ৪৩০ ডলারে উঠেছিল। এরপর যদিও কিছুটা কমেছে। চীনে ধাতুটির চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধির সম্ভাবনায় আগামী মাসগুলোয় বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে তিন মাস সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৮ হাজার ৮৯২ ডলার ৫০ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে। নগদে প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার ডলার ৫০ সেন্টে। ৭ ফেব্রুয়ারি ধাতুটির দাম কমে ৮ হাজার ৮৬৩ ডলারে নেমে গিয়েছিল। এখন আবার বাড়তে শুরু করেছে।

ট্রেডি ইকোনমিকসের ওয়েবসাইটে বলা হয়, চীনে চন্দ্রবর্ষের ছুটিকে কেন্দ্র করে তামার মজুদ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বেড়েছে। সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জের গুদামগুলোয় জানুয়ারির পর থেকে মজুদ ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ৩ ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, মজুদের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০৯ টন।

সাংহাই মেটাল মার্কেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কভিড-১৯-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়ার পর থেকে চীনে তামার চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গত বছরের শেষ দিকে চাহিদা বাড়ানোর জন্য দেশটির সরকার কিছু সহায়তা নীতি গ্রহণ করেছে। চীনে তামার ব্যবহার বাড়লে এ বছর ধাতুটির দাম অনেকটাই বাড়বে।

ফিচ সলিউশন জানায়, চলতি বছর চীনের অর্থনীতিতে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটা ঘটলে তামার চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমন চাঙ্গা হয়ে উঠবে বাজার।

তবে তামার বৈশ্বিক সরবরাহ এখনো চাপের মুখে। এর মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। পেরু বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তামা উত্তোলক দেশ। ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির লা বাম্বাস খনিতে উত্তোলন বন্ধ হয়ে গেছে। তামার বৈশ্বিক সরবরাহের ২ শতাংশই আসে এ খনি থেকে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকেই খনিটিতে উত্তোলন নিম্নমুখী হয়ে ওঠে।