ভারতের পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ডিজেল ও জেট জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়েছে। রাশিয়া থেকেই এসব জ্বালানি পণ্য আমদানি করছে ভারত। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মস্কো থেকে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে নয়াদিল্লি। জাহাজের তথ্য পরিষেবা দাতা প্রতিষ্ঠান কেপলার ও ভরটেক্সা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতকে ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ব্লকটি রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকেই বাজারে বড় রদবদল ঘটেছে। বিকল্প বাজার হিসেবে রাশিয়া ভারত ও চীনকে প্রাধান্য দিচ্ছে। অন্যদিকে ভারতসহ নতুন নতুন বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে ইউরোপ। 

কেপলার ও ভরটেক্সা জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের পরিশোধন কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন ৯ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৯ লাখ ৮১ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রাশিয়ার কাছ থেকে ক্রয় করেছে, যা ভারতের মোট আমদানির এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি। দেশটি সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৪৫-৪৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। 

রাশিয়ার আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের কারণে এশিয়ার পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে। উৎপাদিত এসব জ্বালানি আবার ইউরোপের বাজারেই প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা হচ্ছে। 

কেপলারের দেয়া তথ্যমতে, ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল ও জেট জ্বালানি সরবরাহ করত। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে রুশ পরিশোধিত জ্বালানির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার ফলে সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে দৈনিক দুই লাখ ব্যারেলে উন্নীত হয়। 

ইউরোপে ভারতের ডিজেল রফতানি ১২-১৬ শতাংশ বেড়েছে। দৈনিক রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেলে। পশ্চিমা গ্রাহকরা রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্য কেনা থেকে বিরত আছেন। এ কারণেই ভারত থেকে আমদানি বাড়ছে। 

ভারত যে পরিমাণ জেট জ্বালানি রফতানি করে তার মধ্যে ৫০ শতাংশই যায় ইউরোপের বাজারে। ভারতীয় জেট জ্বালানির অন্যতম ক্রেতা ফ্রান্স, তুরস্ক, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস। 

রাশিয়ার জ্বালানি মেজর রোসনেফট ও ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের মধ্যে একটি চুক্তির পর পরই নতুন মাত্রা পায় দুদেশের মধ্যকার বাণিজ্য। এ চুক্তির মূল্য উদ্দেশ্য ছিল ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি বাড়ানো এবং তাতে বৈচিত্র্য নিয়ে আসা।