রাশিয়ান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আমদানি কমিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২০২২ সালে বৃদ্ধির পর গত বছর জ্বালানি তেলটির আমদানিতে হ্রাস টেনেছে ব্লকটি। রাশিয়া-নির্ভরতা থেকে নিজেদের মুক্ত করার আশায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্লকটির নেতারা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

ব্রাসেলসে ইইউ নীতিনির্ধারকরা একটি আইন চূড়ান্ত করার জন্য কাজ করছেন। যেটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পাইপলাইনের পাশাপাশি এলএনজির মাধ্যমে আমদানি করা রাশিয়ান গ্যাসকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার অনুমতি দেবে। প্রায় দুই বছর ধরে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসনের কারণে দেশটির হাইড্রোকার্বন ত্যাগ করতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কিছু ব্যবসায়ী, বিশ্লেষক এবং ইইউ কর্মকর্তা বিশ্বাস করেন, আইনটি ইউরোপীয় গ্যাসবাজারে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ছাড়াই সরবরাহ প্রায় অর্ধেক থেকে ধীরে ধীরে শূন্যে নামিয়ে আনতে সক্ষম করতে পারে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে। এর পরের মাসগুলোয় ইউরোপে পাইপলাইন গ্যাসে ক্রেমলিনের অস্ত্রায়ণ ইইউ রাজধানীগুলোকে বিকল্প সন্ধানে প্ররোচিত করেছিল। ব্লকটির ক্রমবর্ধমান এলএনজি চাহিদা প্রধানত যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে আচ্ছাদিত ছিল। ফলে বড় উৎপাদক দেশগুলোর একটি রাশিয়া থেকে পাঠানো গ্যাস আমদানিতেও উল্লম্ফন ঘটে। 

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস অনুসারে, রাশিয়ান এলএনজি এবং রাশিয়ান পাইপলাইন গ্যাসের অবশিষ্ট অংশ গত বছর ব্লকটির সামগ্রিক সরবরাহের মাত্র ১৩ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, যা ২০২১ সালের ৪০ শতাংশ থেকে কমেছে। 

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্যমতে, ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে ইইউর এলএনজি আমদানির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫০ কোটি ঘনমিটার, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। গত বছর এটি কিছুটা কমে ১ হাজার ৯৮০ কোটি ঘনমিটারে দাঁড়িয়েছে।

ইইউর জ্বালানি কমিশনার কাদরি সিমসন গত মাসে বলেছিলেন, সদস্য দেশগুলোকে ব্লকের গ্যাস পাইপলাইন এবং এলএনজি টার্মিনালগুলোয় ক্যাপাসিটি বুকিং নিষিদ্ধ করার অনুমতি দেবে। নতুন আইনে ইইউর দেশগুলোর জন্য রাশিয়ান সরবরাহ কমানোর জন্য একটি ‘‌আনুপাতিক এবং লক্ষ্যযুক্ত উপায়’ থাকবে।

ইইউর কর্মকর্তারা বলছেন, এ আইন রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করার জন্য ইইউর সংস্থাগুলোকে মোটা ক্ষতিপূরণ না দিতে একটি ভিত্তি তৈরি করবে।

বিশ্লেষকরা ইউরোপের সরবরাহ নিরাপত্তার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো গ্যাসের চাহিদা পুনরায় ফিরে আসা। এসঅ্যান্ডপির তথ্যমতে, ২০২২ সালের তুলনায় ইইউ গ্যাসের চাহিদা ২০২৩ সালে ৭ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার পথে ছিল।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের গ্লোবাল গ্যাস স্ট্র্যাটেজির প্রধান মাইকেল স্টপার্ড বলেন, ‘‌সরকার ও নীতিনির্ধারকরা গ্যাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে, যা একটি মিথ্যা সান্ত্বনা। আমি মনে করি না যে চাহিদার ভারসাম্যের স্তরটি কোথায় সে সম্পর্কে আমাদের কাছে ভালো ধারণা আছে।’