২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে চীনে ভুট্টা উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একদিকে অনুকূল আবহাওয়া, অন্যদিকে আবাদ বৃদ্ধি উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। সম্প্রতি মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে চীনে ২৭ কোটি ৭২ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে উৎপাদন বেড়ে ২৮ কোটি টনে উন্নীত হতে পারে।
ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মৌসুমে ভুট্টার ব্যবহার ৩০ কোটি ৫০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। এর আগের মাসের তুলনায় পূর্বাভাস ১০ লাখ টন বাড়ানো হয়েছে। ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস জানায়, খাদ্যপণ্য, বীজ ও শিল্প খাতে শস্যটির ব্যবহার বাড়বে। ২০২১ সালে পশুখাদ্য উৎপাদনে ভুট্টার ব্যবহার লক্ষণীয় মাত্রায় কমে গিয়েছিল। তবে এ মৌসুমে তা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৩-২৪ মৌসুমে ভুট্টা আমদানির পরিমাণ ধরা হয়েছে দুই কোটি টন। এপ্রিলে করা প্রাক্কলনের তুলনায় আমদানি ২০ লাখ টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শস্যটির মজুদ বৃদ্ধি ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহারের চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়ানো হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে দেশ দুটির বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে ভুট্টার বিকল্প আমদানি উৎস খুঁজছে চীন। এক্ষেত্রে ব্রাজিলকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে দেশটি।
গত বছরগুলোয় ভুট্টা আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল চীন। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে আমদানি চ্যানেলগুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইজিং ওরিয়েন্ট এগ্রিবিজনেস কনসালট্যান্সির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মা ওয়েনফেং গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ২০২১ সালে চীন ২ কোটি ৮০ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আর ২৬ শতাংশ আমদানি করা হয় ইউক্রেন থেকে।
এদিকে ভুট্টার পাশাপাশি গম উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস জানায়, আবাদ বেড়ে যাওয়ায় এ মৌসুমে ১৪ কোটি টন গম উৎপাদন হতে পারে।










