ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট মোকাবেলায় এশিয়ার দেশগুলো আবারো করোনা মহামারিকালীন কৌশল ব্যবহারের কথা ভাবছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশ এরই মধ্যে বাড়িতে বসে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৮০ শতাংশেরই ক্রেতা এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এ নৌপথ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ায় এশিয়াই এখন সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে। খবর রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সংকট মোকাবেলায় মানুষকে বাড়ি থেকে কাজ করার পাশাপাশি উড়োজাহাজ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী কিম সাং-হওয়ান এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। এ ছাড়া দেশটিতে গোসলের সময় কমানো এবং ছুটির দিনে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহারের মতো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

ফিলিপাইনও এরই মধ্যে কিছু সরকারি অফিসের কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেছেন, এ যুদ্ধ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ বিপদ। অন্যদিকে পাকিস্তান দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে এবং কর্মীদের বাড়িতে বসে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। শ্রীলংকায় জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির ওপরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। জাপান সরকার পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৮০ হাজার কোটি ইয়েন ভর্তুকি দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। নিউজিল্যান্ডও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাপ্তাহিক আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় তেলের পাম্পগুলো জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ায় সরকার অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তি দ্বিগুণ করার আইন আনছে।

তবে করোনা মহামারির সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। মহামারির সময় অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে সুদের হার কমানো হয়েছিল। কিন্তু এখন জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো উল্টো সুদের হার বাড়ানোর কথা ভাবছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে একদিকে যেমন পণ্যের দাম বাড়ে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।