আবহাওয়ায় এল নিনোর প্রভাবে আগামী বছর পাম অয়েলের দাম বাড়তে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার ও আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান বিএমআই ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ।

এক প্রতিবেদনে বিএমআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালে প্রতি টন পাম অয়েলের গড় দাম পূর্বাভাস ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫১৫ রিঙ্গিতে বাড়ানো হয়েছে। এটি বিএমআইয়ের ২০২৩ পূর্বাভাস থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বছরওয়ারি পতনের প্রতিনিধিত্ব করে।

বিএমআই বলছে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়া অস্বাভাবিক শুষ্ক হয়ে যাবে। এ কারণে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল আবাদের পরিমাণ নিম্নমুখী হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পাম অয়েলের ফলন কমে আসবে বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হলেও ২০২৪ সালে পাম অয়েলের বৈশ্বিক সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকবে বলে প্রত্যাশা বিএমআইয়ের। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০২২-২৩ বিপণন বছরের মতো ২০২৩-২৪ বিপণন বছরেও পাম অয়েলের বাজারে ১২ লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকবে।

২০২৩ সালের শেষের দিক থেকে ২০২৪ সালের শুরুতে বিএমআই জানায়, ভারতের পাম অয়েল আমদানির চাহিদা সাধারণত অভ্যন্তরীণ শীতকালে দুর্বল হয়ে যায়। ভারতের সাম্প্রতিক ভোজ্যতেলের মজুদাগার তৈরির কারণে এ মৌসুমি চাহিদা কমে যেতে পারে। তবু ফেব্রুয়ারিতে চীনের নববর্ষের কেনাকাটা চাহিদা হ্রাসকে কিছুটা প্রশমিত করবে।

বিএমআই বলছে, ২০২৩ সালের শেষ ও ২০২৪ সালের শুরু দিকের কিছুদিন আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম নিম্নমুখী থাকবে। এর কারণ শীর্ষ আমদানিকারক ভারতে শীতকালে পাম অয়েলের চাহিদা কমে আসে। তাছাড়া কয়েক মাস আগে ব্যাপক হারে আমদানি বাড়ানোয় দেশটিতে ভোজ্যতেলের মজুদ বেড়েছে। 

তবে ফেব্রুয়ারিতে বাজার ঘুরতে শুরু করবে। মাসটিতে চীনের নতুন চান্দ্র বর্ষ শুরু হবে। এ উৎসব উপলক্ষে দেশটিতে পাম অয়েলের আমদানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে বিএমআই।