বর্তমান নীতিমালা ও প্রযুক্তির ব্যবহার চলমান থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছে ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি আউটলুক ২০২১-এ এ ইঙ্গিত দেয়া হয়। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

ইআইএ জানায়, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশেষ করে এশিয়া অঞ্চলে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়বে। মহামারী-সংক্রান্ত চাহিদা হ্রাস ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি ঘটবে বলে ধারণা করছে ইআইএ।

বিদ্যমান আইন ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা অনুসারে জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে পূর্বাভাস ইআইএর উদ্ধৃতিতে জানা যায়, ২০৫০ সাল নাগাদ জ্বালানির সব খাতের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বাড়বে। এ সময় জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে স্থান দখল করে রাখবে তরল জ্বালানিগুলো। বিশ্বব্যাপী শিল্প ও পরিবহন খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে তরল জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।

ইআইএ ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক স্টিফেন ন্যালি জানান, যদিও এ সময়ের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। জ্বালানি ব্যবহারের নীতিমালায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন অথবা প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসার পূর্বে ২০৫০ সাল নাগাদ জ্বালানি সম্পর্কিত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বাড়তে থাকবে।

ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)-বহির্ভূত দেশগুলোতে ২০৫০ সাল নাগাদ বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে দ্বিগুণ মাত্রায়। যদিও বৈদ্যুতিক গ্রিডের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে ভূমিকা রাখবে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও ব্যাটারি। 

জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও দ্রুতগতির অর্থনীতির ফলে ইআইএর ধারণা মতে, তরল জ্বালানি ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে এশিয়ার ওইসিডি-বহির্ভূত দেশগুলোতে। এসব দেশে ২০২০ সালের তুলনায় ২০৫০ সাল নাগাদ জ্বালানির ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।

সংস্থাটি আরো জানায়, এসব দেশে বিদ্যুতের ব্যবহার তার উৎপাদনের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে। ফলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল অথবা খাঁটি পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এসব উৎপাদন প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু হতে পারে।

স্টিফেন ন্যালি জানান, ২০৫০ সাল নাগাদ এশিয়ার দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলো প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক হয়ে উঠবে, যা তাদের জ্বালানি ব্যবহারের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবৃদ্ধি ঘটাবে।