অ্যালুমিনিয়াম আমদানি কমিয়েছে চীন। গত মাসে ধাতুটির আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়। মূলত বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধে বিগলন কেন্দ্রগুলোয় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন সীমিত করায় আমদানি চাহিদায় ভাটা পড়ে। এ কারণেই অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে ধস নেমেছে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগস্টে চীন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৭ টন অগঠিত অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্য আমদানি করে। জুলাইয়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৮৬ টন। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ২০ দশমিক ৭ শতাংশ।

গত বছরের আগস্টে মহামারীর প্রভাবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে অ্যালুমিনিয়ামের দাম কমে যায়। এ সুযোগে চীন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করে। তবে চলতি বছর বিগলন কেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণেও স্থানীয় সরবরাহ কমিয়ে আনা হয়েছে।

চীনের সবচেয়ে বড় প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। আগস্ট থেকে দেশটি অ্যালুমিনিয়াম রফতানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ প্রতি টন অ্যালুমিনিয়াম রফতানিতে ২৫৪ ডলার শুল্ক দিতে হবে। এটি চীনের অ্যালুমিনিয়াম আমদানি হ্রাসে প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে মন্দা পরিস্থিতিতে রয়েছে চীনের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন খাতও। জুলাইয়ে ধাতুটির উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় হ্রাস পায়। এ নিয়ে টানা তিন মাস উৎপাদন হ্রাসের ঘটনা ঘটেছে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকে চাপের মুখে ফেলেছে। ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, জুলাইয়ে চীন ৩২ লাখ ৬০ হাজার টন প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। জুনে উৎপাদন হয়েছিল ৩২ লাখ ৯০ হাজার টন। সে হিসাবে ধাতুটির উৎপাদন দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে চীন দৈনিক ১ লাখ ৫ হাজার ১৬১ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। জুনের দৈনিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টন। এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক উৎপাদন কমেছে ৪ হাজার ৫৩৯ টন।

এদিকে উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশীয় সরবরাহ সংকুচিত হয়ে এলেও ধাতুটির রফতানি বাড়িয়েছে চীন। জুলাইয়ে দেশটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম রফতানি করে। গত বছরের মার্চের পর এটিই সর্বোচ্চ রফতানি।