নিউইয়র্কে গতকাল চকোলেট তৈরির কাঁচামাল কোকোর দাম বেড়ে ১২ বছরের সর্বোচ্চে। কয়েক সপ্তাহ আগেই লন্ডনে এটির দাম ৪৬ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। ব্যবসায়ী ও চকোলেট উৎপাদকরা বর্তমানে কোকোর সরবরাহ নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। খবর রয়টার্স।
নিউইয়র্কের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে কার্য দিবসের শুরুতে কোকোর বাজার আদর্শ চুক্তি মূল্য বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ৪২৯ ডলারে উন্নীত হয়, যা ২০১১ সালের মার্চের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ। কার্যদিবসের শেষ সেশনে দাম ৩ হাজার ৪০৭ ডলারে স্থির হয়, যা এর আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
কৃষিপণ্যগুলোর মধ্যে বর্তমানে কোকোর দাম সবচেয়ে চড়া। কারণ আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলে পণ্যটির উৎপাদন নজিরবিহীন কমে যাওয়া। অঞ্চলটি থেকেই বিশ্বের চকোলেট উৎপাদকদের কাছে সবচেয়ে বেশি কোকো সরবরাহ হয়। সংশ্লিষ্টরা বৈরী আবহাওয়াকে উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে দায়ী করছেন।
যেসব দেশে সর্বাধিক কোকো উৎপাদন হয় তার মধ্যে অন্যতম ঘানা, আইভরি কোস্ট, নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুন। কয়েক মাস ধরেই এসব দেশের আবহাওয়া স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ। এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব এসব দেশে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রাবোব্যাংকের কোকোর বাজার বিশ্লেষক পল জুলস বলেন, ‘যে বছর এল নিনো দেখা দেয়, সে বছর স্বাভাবিকভাবেই কোকোর উৎপাদন ব্যাহত হয়। এবার এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে তা আমরা জানি না। তবে বিভিন্ন পূর্বাভাস শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে আফ্রিকায় কোকো উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে মূল উৎপাদনও ব্যাহত হবে।’
আইভরি কোস্ট বিশ্বের শীর্ষ কোকো উৎপাদক। দেশটির বন্দরগুলোয় রফতানির উদ্দেশ্যে কোকো আসার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ কমে গেছে, যা নিম্নমুখী উৎপাদনের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
লন্ডনে গতকাল কোকোর ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বা ১৮ পাউন্ড বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২ হাজার ৫৩২ পাউন্ডে। অন্যান্য পণ্যের মধ্যে অপরিশোধিত চিনির দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি পাউন্ডের মূল্য স্থির হেয়েছে ২৩ দশমিক ৮৬ সেন্টে। পণ্যটি এখনো কিছুটা সংকোচনের মধ্য দিয়ে লেনদেন হচ্ছে। এর আগে গত এপ্রিলে এটির দাম বেড়ে ১১ বছরের সর্বোচ্চে উঠে গিয়েছিল। অন্যদিকে অ্যারাবিকা কফির দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে পাউন্ডপ্রতি ১ হাজার ৫৬৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে। রোবাস্তা কফির দাম পৌঁছেছে টনপ্রতি ২ হাজার ৫৩২ ডলারে।










