প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে লেবাননে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির মূল্যস্ফীতি মে মাসে ২৬০ শতাংশ ছুঁয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকট ঠেকানোর মতো জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারেনি দেশটি। টানা ৩৫ মাস ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকায় দেশটির মুদ্রার মান অফিশিয়াল ও খোলাবাজারে কমেই যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির শুরুতে লেবানিজ পাউন্ডের দাম ৯০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছিল।

সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব স্ট্যাটিসটিকস কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্যমতে, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, তামাক, রেস্তোরাঁ ও হোটেল খরচ বাড়ার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এপ্রিল থেকে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) প্রায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।

২০২১ সালে দেশটির মূল্যস্ফীতির পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫৫ শতাংশে। ২০২২ সালে মূল্যস্ফীতি পাগলা ঘোড়ার ন্যায় ছুটতে শুরু করে। চার দশকের মধ্যে ওই বছর লেবাননের সর্বোচ্ছ মূল্যস্ফীতি ১৭১ শতাংশে উঠে যায়। পরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমতে শুরু করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক লেবানিজ পাউন্ডের অবমূল্যায়ন ঘটায়। ফলে পুনরায় মূল্যস্ফীতি লাগাম ছাড়া হতে শুরু করে। প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতি অফিশিয়াল বিনিময় হার উঠেছে ১৫ হাজার লেবানিজ পাউন্ডে, যা ১৯৯৭ সালের পর সর্বোচ্চ। সে সময় ডলারের বিনিময় হার ছিল ১ হাজার ৫০৭ দশমিক ৫০ লেবানিজ পাউন্ড।

দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে বিশ্বব্যাংক আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) আন্তর্জাতিক দাতারা দেশটিকে প্রয়োজনীয় শর্তসহ কয়েকশ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে আইএমএফের কাঠামোগত ও আর্থিক সংস্কারের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা নিতে পারছে না মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

সীমিত ক্ষমতাসহ দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির নেতৃত্বাধীন একটি তত্ত্বাবধায়ক মন্ত্রিসভা রয়েছে। আগামী অক্টোবরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের ছয় বছরের মেয়াদকাল শেষ হবে। তখন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য দেশটির রাজনৈতিক এলিটদের মধ্যে মতৈক্যের প্রয়োজন পড়বে।

চলতি জুনের শুরুতে লেবাননের পার্লামেন্ট নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে ১২ বারের মতো চেষ্টা চালিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক অচলাবস্থা অতীতেও লেবাননের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে স্থবির করে তুলেছিল।

২০১৬ সালে ১২৮ আসনের পার্লামেন্টে আউনের নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটি আড়াই বছর রাষ্ট্রপতিহীন ছিল। 

তার পূর্বসূরি মিশেল স্লেইম্যান রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে ১৯ বার নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। অবশেষে ১৮ মাসের রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটিয়ে ২০০৮ সালে কাতারের সহায়তায় তিনি নির্বাচিত হন।