উচ্চ কার্বনজাতীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এটি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ আসলেই কমাতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নীতিটি এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সম্প্রতি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। খবর রয়টার্স।
কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) জানায়, উৎপাদনের আউটসোর্সিং ইইউর সাপ্লাই চেইনের বৃহৎ অংশকে তার নিঃসরণ ট্রেডিং স্কিমের (ইটিএস) বাইরে রেখেছিল। এ পরিস্থিতিকে কার্বন লিকেজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
এটা ব্যবসার ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের সমান অংশগ্রহণের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং দেশের ভেতরে সরবরাহকারী ছাড়াও বিদেশের সমপরিমাণ কার্বনের মূল্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি ইটিএক্সের অধীনে না হলেও তাদের একই অর্থ দিতে হবে।
এডিবি বলেছে, ইইউতে এশীয় রফতানি কমিয়ে দেবে সিবিএএম। বিশেষ করে পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় এ হার কমবে সবচেয়ে বেশি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এতে ভারতের ইস্পাত রফতানিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এডিবি জানিয়েছে, এশিয়াজুড়ে কার্বনযুক্ত পণ্য উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। তবে নিঃসরণ অল্প পরিমাণে কমলেও তা এটি দ্বারা অফসেট হবে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস প্রযুক্তির প্রক্রিয়াগুলো আরো কার্যকর হবে।
এডিবির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ নিল ফস্টার-ম্যাকগ্রেগর বলেন, ‘এটি আসলে এই মুহূর্তে একটি অপেক্ষাকৃত সীমিত নীতি। এটি শুধু ইইউতে আমদানি করে এমন দেশগুলোর জন্য এবং শুধু ছয়টি সেক্টর কভার করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদনের পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে, আমরা যদি বিশ্বজুড়ে কার্বনমূল্য আরো বাড়াই, তাও বর্তমানে সমপরিমাণ ক্রমবর্ধমান কার্বন নিঃসরণ দেখতে পাবো। তাই আমাদের উৎপাদন কৌশলগুলোয় মৌলিক পরিবর্তন আনা লাগবে।’










