রাজবাড়ীতে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। তবে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে আবাদে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হয়েছে কৃষকের। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকের দাবি, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করা গেলে কিছুটা লাভ থাকবে তাদের। কিন্তু বর্তমানে বড় আকারের ভালো মানের পেঁয়াজই ২০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে পারছেন না। ছোট আকারের পেঁয়াজে দাম পাচ্ছেন সর্বোচ্চ ১৫ টাকা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় এ বছর ৩৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেখানে আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ ৩২৫ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। পেঁয়াজ চাষে কৃষকের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক কৃষক।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের হরিহরপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিক, বীজ, ও সারসহ বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দাম কমেছে। আমদানিও হচ্ছে। এ অবস্থায় উৎপাদন খরচই উঠবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

হরিণবাড়িয়া এলাকার কৃষক আলমাস ফকির বলেন, ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে। এখন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে বাজার থাকলে আগামীতে আর কেউ পেঁয়াজ আবাদ করবে না।’

কৃষক রুপণ প্রামাণিক বলেন, ‘রাজবাড়ীতে অনেক জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়। ৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলে লাভবান হবেন কৃষক। এর কমে বিক্রি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে না যাওয়া ও প্রণোদনার সঠিক বণ্টন নিয়ে অভিযোগ করেছেন তিনি।’

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম শহিদ নুর আকবর বলেন, ‘পেঁয়াজের উন্নতমানের জাত নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ বছর ৬৭৫ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সার ও বীজ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সবসময় কৃষকের খোঁজখবর রাখছেন।’