জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল জাপান। রুশ জ্বালানি খাতে দেশটির বড় বিনিয়োগও রয়েছে। তবে ইউক্রেনে আগ্রাসন নীতির কারণে রাশিয়া থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে টোকিও। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বিকল্প উৎসেবিনিয়োগ করবে। সম্প্রতি এ কথা জানিয়েছেন জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী কোইচি হাগিউদা।

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো রুশ অর্থ ব্যবস্থার ওপর বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এড়িয়ে চলতে চায় জাপান।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কোইচি হাগিউদা বলেন, আমরা রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। রাশিয়ার বাইরে বিকল্প সরবরাহ উৎস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে।

রুশ জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর নানা পদক্ষেপের মধ্যে এলএনজি খাতে বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

১১ মার্চ এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি (জি-৭) অব্যাহতভাবে রুশ জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার ব্যাপারে সম্মত হয়। মূলত ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন নীতির প্রতিক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

হাগিউদা বলেন, জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের দেয়া বিবৃতির ভিত্তিতে আমরা রাশিয়ায় অবস্থিত সাখালিন ১, ২ ও আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্পের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।

রাশিয়া থেকে জাপান যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি করে, তার প্রায় পুরোটাই আসে সাখালিন ২ প্রকল্প থেকে। দেশটির প্রধান প্রধান জ্বালানি কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে এ প্রকল্পে। অন্যদিকে আর্কটিক এলএনজি ২ প্রকল্পেও বড় বিনিয়োগ আছে জাপানের।

জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য বলছে, গত বছর দেশটির মোট এলএনজি আমদানির ৯ শতাংশই সরবরাহ করে রাশিয়া। এ সময় রাশিয়া থেকে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করা হয়। এছাড়া আমদানীকৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ৪ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। দেশটি থেকে আমদানি করা হয়েছে দৈনিক ২৪ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বন্ধের ঘোষণার পর পরই জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো বিবৃতি দেয়। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।