উচ্চ মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সুদের হার বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। অনেকটা নাটকীয়ভাবেই বৃহস্পতিবার সুদের হার ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেয় তুরস্ক সরকার। প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে অবমূল্যায়ন ঘটেছে লিরার। সুদের হার বাড়ানোর ঘোষণার পর লিরার দরে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অবমূল্যায়ন ঘটেছে। শুক্রবার ডলারের বিপরীতে লিরার অনুপাত দাঁড়িয়েছিল ২৫ দশমিক ৭৪, যা বছরের সর্বনিম্ন। খবর রয়টার্স।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত অক্টোবরে বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৮৫ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ে, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। পণ্যসামগ্রী সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নেমে এলেও তা স্বস্তিদায়ক হতে পারেনি দেশটির জন্য। গত মে মাসেও ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি রেকর্ড হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, বিশ্বের অনেক দেশের মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হওয়া সত্ত্বেও তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুদহার বাড়ানো হলেও এরদোগান বিশ্বাস করতেন, সুদহার কম রাখলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আসবে।
সমালোচনা হলেও কয়েক বছর অনঢ় ছিলেন তিনি। তবে গত মাসে পুনর্নির্বাচিত হয়েই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তুরস্কে গত দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই প্রথমবারের মতো সুদ হার বাড়ার খবর।
প্রেসিডেন্ট হয়ে অর্থনীতি নিয়ে আর কোনো পরীক্ষা চালাতে চান না এরদোগান। তাই নির্বাচিত হওয়ার এক মাস না পেরোতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বদল করেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতেই নিয়োগ দেন মার্কিন আর্থিকপ্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক কর্মকর্তা হাফিজ গায়ে এরকানকে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রথম নারী গভর্নরের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল এটি। অন্যদিকে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে রয়েছেন প্রবীণ অর্থনীতিবিদ মেহমেত সিমসেক। তুরস্কের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া মেহমেত সিমসেক বলেছেন, ‘এ পদক্ষেপের ফলে ধীরে হলেও মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিবৃতিতে বলেছে, মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমিয়ে আনতে সুদ হার বাড়ানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আগামীতে ধীরে ধীরে এ হার বাড়ানো হবে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লিয়াম পিচ বৃহস্পতিবার লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিবৃতিতে আগামীতে সুদ হার আরো বাড়ানোর উৎসাহজনক লক্ষণ রয়েছে।’










