বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন চলতি বছরের মে মাসে বেড়েছে। টানা দুই মাস নিম্নমুখী থাকার পর এ সময় ধাতুটির উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন (ওয়ার্ল্ড স্টিল)। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
ওয়ার্ল্ড স্টিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে বিশ্বের ৭১টি দেশে মোট ১৬ কোটি ৫১ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এর আগে গত বছরের মার্চে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল।
চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদন ও ব্যবহারকারী দেশ। ২০২২ সাল ও গত বছরের শুরুর দিকে দেশটিতে ইস্পাতের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। প্রপার্টি খাতে ব্যাপক অস্থিরতায় ওই সময় দেশটিতে অবকাঠামো নির্মাণ কমে যায়। ফলে এ খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ ইস্পাতের চাহিদায়ও ভাটা পড়ে। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। দেশটির সরকার অর্থনীতিকে গতিশীল করতে নানা উদ্যোগ নেয়। প্রপার্টি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায়ও জোর দেয়া হয়। বাড়তে শুরু করে ধাতুটির চাহিদা ও দাম, যা বৈশ্বিক বাজারকেও ঊর্ধ্বমুখী করে তোলে। শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশটি গত মে মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি ইস্পাত উৎপাদন করেছে। এ সময় দেশটিতে মোট ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ২৯ লাখ টন।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। মে মাসে দেশটিতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় ভারতে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭২ লাখ টন। যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত উৎপাদনও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটি মোট ৬৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে।
রাশিয়ায় অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬৩ লাখ টনে নেমেছে।
বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ তুরস্ক। মে মাসে দেশটির উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় দেশটি মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে ৩২ লাখ টন।
অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বিশ্বে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। এ সময় বিশ্বের ৭১টি দেশে মোট ৭৯ কোটি ৩২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কম।
এদিকে ওয়ার্ল্ড স্টিলের বরাত দিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি বছর ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৭৯ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। ২০২৫ সালেও চাহিদা বৃদ্ধির এ হার অব্যাহত থাকবে। এ বছর ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে ভারত। দেশটির সরকার সম্প্রতি ইস্পাত শিল্পের জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বছরে ৫০ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের।
স্টিলমিন্ট ইন্ডিয়ার দেয়া তথ্যমতে, ভারতে ইস্পাতের চাহিদা বছরে ৭ শতাংশ হারে বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটিতে ইস্পাতের চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৯ কোটি টনে।










