চলতি বছর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্যটির চাহিদা প্রবৃদ্ধি নিয়েও ঝুঁকির আভাস দিয়েছে ওপেক প্লাস। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোটটি। মূলত জোটভুক্ত দেশগুলো বেঁধে দেয়া কোটা অনুযায়ী উত্তোলন বাড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হচ্ছে উদ্বৃত্ত।
সম্প্রতি ওপেক প্লাসের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির (জেটিসি) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠক উপলক্ষে জেটিসি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনেক বেশি ইতিবাচক দিকে মোড় নিলেও বিশ্ববাজারে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক নয় লাখ ব্যারেলে। তবে বৈঠক শেষে উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমিয়ে দৈনিক চার লাখ ব্যারেলে নামানো হয়েছে। অন্যদিকে চলমান অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর কথা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির উত্তোলন কমলে বিশ্ববাজারে সংকট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা প্রকট হয়েছে। তার ওপর ওপেকের উত্তোলন কমে যাওয়ার খবরে বাজারদর আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। সোমবার পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠে আসে, যা এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও নিম্নমুখী চাহিদার আশঙ্কায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ ডলার কমে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ দেখা দিলে বাজার নিয়ন্ত্রণে উত্তোলন কমানোর পদক্ষেপ নেয় ওপেক প্লাস। তবে গত বছর মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে প্রতি মাসে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি। সর্বশেষ বৈঠকে সেপ্টেম্বরে উত্তোলন দৈনিক এক লাখ ব্যারেল করে বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ওপেক প্লাস।
চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে জ্বালানিটির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে জ্বালানি তেলে স্থানান্তরকে চাহিদা বৃদ্ধির মূল কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন সংস্থাটির বিশ্লেষকরা। তবে অন্যান্য খাতে জ্বালানি তেলের চাহিদা ব্যাপক হারে কমবে, যা সার্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আইইএ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর দৈনিক ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে বাড়বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা। মোট দৈনিক চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ২১ লাখ ব্যারেলে।
গত মাসে আইইএ জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছিল। তবে এ মাসে তা অস্বাভাবিক বাড়ানো হয়। বিশেষ করে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, সৌদি আরব ও ইরাকে চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়বে।
তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্যাস থেকে জ্বালানি তেলে স্থানান্তর বাদে অন্যান্য খাতে পণ্যটির চাহিদা নিম্নমুখীই থাকবে বলে জানিয়েছে আইইএ। এ কারণে চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল।
আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মোট বৈশ্বিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ৯ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেল। আগামী বছর তা আরো বেড়ে ১০ কোটি ১৮ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে।










