সুদহার বাড়ানোর প্রক্রিয়া এখনই শেষ হচ্ছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই)। এমনকি সুদহার আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংকটি। খবর ইয়াহু ফাইন্যান্স।
দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াই এখনই শেষ হচ্ছে না। আমাদের এখনো কিছু পথ বাকি।’
থ্রেডনিডেল স্ট্রিট (বিওইর ঠিকানা) থেকে জানা যায়, বড় অর্থনীতির অন্য দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাজ্য কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। কারণ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (এমপিসি) ঋণ গ্রহণের খরচ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে আটকে রাখতে ভোট দিয়েছে।
অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, ‘সুদহার কমানোর বিষয়ে শিগগির আলোচনা হবে। একই সঙ্গে এমপিসি সতর্ক করেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকলে নীতি আরো কঠোর করার প্রয়োজন হবে।’
বেইলির এমন মন্তব্য মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সম্প্রতি জেরোম পাওয়েল বলেছিলেন, ‘নীতিনির্ধারকরা সুদহার কমানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন।’
ফেড আগামী বছর তিনবার সুদহার কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। এমন ঘোষণার পর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দুই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে এটি একটি স্পষ্ট বিভাজন। ব্যাংকের এমন ঘোষণার পর ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময় হার এক সেন্টের বেশি বেড়েছে। এতে ১ পাউন্ডের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ ডলার ২৮ সেন্ট।
অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্তিন লাগার্দ জানান, ইউরোজোনের নীতিনির্ধারকরা তাদের সর্বশেষ বৈঠকে সুদহার কমানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা করেননি। ইসিবি সুদহার রেকর্ড ৪ শতাংশে ধরে রেখেছে।
তবে বিশ্বব্যাপী সুদহার সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে জানিয়ে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মুদ্রানীতি সহজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিওইর গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি চেয়েছিলেন ফেডকে অনুসরণ করে শিগগিরই সুদহার কমানোর দিকে যাবেন। পাউন্ডের বিনিময়মূল্য বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা মনে করেছিলেন আগামী বছর যুক্তরাজ্যে সুদহার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশে কমানো হবে।
সাবেক ব্যাংক রেট সেটার মার্টিন ওয়েল সতর্ক করে বলেছিলেন, ফেড সুদহার কমানোর আলোচনা অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে ‘একটি মহাকর্ষীয় টান’ প্রয়োগ করবে। এটা থ্রেডনিডল ট্রিটের পক্ষে উপেক্ষা করা কঠিন হবে।
অ্যান্ড্রু বেইলি আরো বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির গতিশীলতা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক বেশি ভিন্ন। ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ শুরুর পর জ্বালানির দামের তীব্র বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে যুক্তরাজ্যে দাম বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা রেখেছে। আর তাদের একটি শক্তিশালী দেশীয় জ্বালানি শিল্পও রয়েছে।’
যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জি৭ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। এছাড়া যুক্তরাজ্যই একমাত্র প্রধান অর্থনীতির দেশ, যাদের খাদ্য মূল্যস্ফীতি দুই সংখ্যায় রয়েছে।
খাদ্য ও জ্বালানি খরচের বাইরে যুক্তরাজ্যের মূল মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোজোনের তুলনায় অনেক বেশি।
অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমরা একটি চক্রের শীর্ষে আছি এবং মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে একটি ভালো লক্ষণ দেখছি। কিন্তু আমাদের আর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমরা খুব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছি, যা ইউরোপের ক্ষেত্রে আরো স্পষ্ট।’
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সুদহার আর যদি নতুন করে বাড়ানো না হয়, তার পরও লম্বা সময়ের জন্য এটি এখানে স্থির থাকবে। যাতে মূল্যস্ফীতি বিওইর লক্ষ্যমাত্রার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা যায়।
এইচএসবিসি ব্যাংকের যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ লিজ মার্টিনস বলেছিলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম মূল্যস্ফীতি মন্থর হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় স্পষ্টভাবে কমেছে। আমরা এখন মনে করি, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদহার কমানো শুরু করবে। তারও দুই মাস আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো সুদহার কমাবে ফেড। এরপর আমরা প্রতি প্রান্তিকে দশমিক ২৫ শতাংশ কমানো দেখার আশা করছি, যা ২০২৫ সালে শেষ নাগাদ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসবে।’










