নিম্নমুখী দাম ও তেলকূপ খনন কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিট উৎপাদন বাড়েনি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অন্তত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ের আগে উৎপাদন বাড়ার তেমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর রয়টার্স। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও উপজাত গ্যাস উৎপাদন ছিল দৈনিক ১ কোটি ৩২ লাখ ব্যারেল। নিম্নমুখী দামের কারণে নতুন করে তেলকূপ খনন কার্যক্রমেও আগ্রহ নেই যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর। গালফ অব মেক্সিকোর ফেডারেল ওয়াটার্স ছাড়া দেশটির ৪৮টি প্রদেশে উৎপাদন কমে গেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালে তেল ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর পর থেকে দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও কমে গেছে।

২০২৩ সালের দ্বিতীয় অর্ধ থেকে দৈনিক ৯-১০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল কম উৎপাদন হয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য প্রতি ব্যারেল ১২৪ ডলার দরে জ্বালানি তেল লেনদেন হয়। বছরের শেষ নাগাদ তা কমে ৮১ ডলারে নেমে আসে। এর প্রায় ১০-১২ মাস পর দাম নিম্নমুখী থাকলেও উৎপাদনে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। 

তবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসেনি। কিন্তু গত মার্চ থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে গত ছয় মাস নিট উৎপাদন না বাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

চলতি বছরের মে ও জুনে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস ব্যারেলপ্রতি ৭৩-৭৮ ডলার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্যে বিক্রয় হয়েছে। ২০০০ সালের পর মাস দুটিতে ৪৫-৫৫ শতাংশ মাসের তুলনায় কম বা বেশি দামে তেল ও গ্যাস বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তেলকূপ খননের গড়সংখ্যা সর্বোচ্চ ৬২৩-এ পৌঁছেছিল। এ বছরের মে মাসে তা ৪৯৭-এ নেমে এসেছে। এ অবস্থায় অন্তত ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত উৎপাদন হারে পরিবর্তন না আসার সম্ভাবনাই বেশি।