পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয়ায় দীর্ঘ এক মাস চারদিন পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। ফলে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আমদানীকৃত ও দেশী পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১৫-১৮ টাকা। এতে ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। আমদানি বাড়লে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকায় নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ভারত থেকে চারটি ট্রাকে ৯৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। হিলি স্থলবন্দরের মেসার্স রাইয়ান ট্রেডার্স এসব পেঁয়াজ আমদানি করে। আমদানীকৃত পেঁয়াজ ৩২-৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা শেরেগুল ইসলাম ও ইসাহাক আলী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। দুদিন আগেও দেশী পেঁয়াজ ৬০ টাকায় কিনেছিলাম, এখন তা কমে ৪৩-৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এসব পেঁয়াজ এখন ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাকিল খান ও ফিরোজ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় মাত্র একদিনের ব্যবধানে দাম অনেক কমে গেছে। আমদানি যদি আরো বাড়ে তাহলে দাম আরো কমবে।

তিনি বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসার ফলে মোকামে দেশী পেঁয়াজের দামও কমতে শুরু করেছে। একদিন আগেও আমরা ভারতীয় পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৪৫-৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিলাম। এখন তা কমে ৩২-৩৬ টাকায় নেমেছে। আর দেশী পেঁয়াজ প্রকারভেদে যেখানে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দের বিক্রি করেছিলাম, এখন তা ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি করছি। দাম কমার ফলে পেঁয়াজ বিক্রিও আগের তুলনায় বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মামুনুর রশীদ লেবু বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আমদানি বন্ধ রাখতে আমদানির অনুমতি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে গত ২৯ এপ্রিল থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। এ সময় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। পুনরায় আমদানির অনুমতি দেয়ায় বন্দর দিয়ে এরই মধ্যে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়ে গেছে। ফলে একদিনেই পেঁয়াজের দাম ১০-১৫ টাকার বেশি কমেছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, নতুন করে আইপি পাওয়ার ফলে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে।