টানা দুই মাস নিম্নমুখী থাকার পর আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজার। আগস্টে অতি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায় সব ধরনের খাদ্যের দাম। বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে চিনি, গম ও ভোজ্যতেলের ঊর্ধ্বমুখিতা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আগস্টে এফএওর খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৭ দশমিক ৪ পয়েন্টে। এটি গত জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এছাড়া গত বছরের আগস্টের তুলনায় মূল্যসূচক বেড়েছে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মাসে লেনদেন হওয়া খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এ সূচক নির্ধারণ করা হয়।

এফএওতে চিনি মূল্যসূচক জুলাইয়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিনি রফতানিকারক ব্রাজিলে বৈরী আবহাওয়া ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন খাতকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ফলে বিশ্ববাজারে তৈরি হয়েছে চিনির সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ার আশঙ্কা। এটিই পণ্যটির বাজারদরকে সামনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে উৎপাদন প্রবৃদ্ধি চিনির বাজারকে কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখছে। একই সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন ও ব্রাজিলে মুদ্রার বিনিময়মূল্য হ্রাসও চিনির বাজারে স্থিতি স্থাপন করছে।

গত মাসে এফএওতে ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাশার তুলনায় কম উৎপাদন আশঙ্কার কারণে পণ্যটির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ হ্রাস ও মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। পাম অয়েলের পাশাপাশি সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের দাম বেড়েছে।

এদিকে এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যশস্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখিতা ফিরে এসেছে। জুলাইয়ের তুলনায় এসব পণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে গমের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এফএও বলছে, প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোতে উৎপাদন সম্ভাবনা হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে গত মাসে কৃষিপণ্যটির দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখি। তবে এর বিপরীতে কমে গেছে ভুট্টার দাম। এফএওতে খাদ্যশস্যটির মূল্যসূচক জুলাইয়ের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ভুট্টার দরপতনে প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে অন্যতম শীর্ষ উৎপাদক দেশ আর্জেন্টিনা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউক্রেন। এসব দেশে চলতি বছর ভুট্টার উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হ্রাস পেলেও তা বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। এদিকে আগস্টে চালের বৈশ্বিক বাজারও নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

এফএওর মাংসের মূল্যসূচক স্বল্প মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটি জানায়, পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় গরু, ভেড়া ও মহিষের মাংস ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছে চীন। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে আগস্টে আমিষজাতীয় এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। এদিকে পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী আমদানি চাহিদার কারণে বেড়েছে হাঁস-মুরগির মাংসের দাম। তবে শূকরের মাংসের বাজারে দরপতন লক্ষ করা গেছে। আগস্টে চীন শূকরের মাংস ক্রয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলোতে হ্রাস পায় চাহিদা। এসব কারণেই গত মাস জুড়ে এ মাংসের বাজার ছিল নিম্নমুখী। এদিকে বৈশ্বিক আমদানি চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ায় কমেছে দুগ্ধপণ্যের দামও।