দেশের বীমা খাতকে এগিয়ে নেয়া ও উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমি (বিআইএ) এবং ইনসিওরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) যে সক্ষমতা প্রয়োজন সেটি এখনো তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী।

বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিআইএর সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও অ্যাসোসিয়েটশিপ সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিআইএ।

মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বীমা খাত সেভাবে এগিয়ে যেতে পারেনি। এর জন্য বিআইএর সাফল্য ও ব্যর্থতা হিসাব করা প্রয়োজন। সম্ভাবনাময় বীমা শিল্পে দক্ষ জনশক্তি সরবরাহের জন্য একাডেমির সক্ষমতা আরো বেশি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। জনবল, জনবলের মান ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। একই সমস্যায় ভুগছে আইডিআরএ।

বীমা খাতের রেগুলেটর হিসাবে যে সক্ষমতার প্রয়োজন ছিল তা তৈরি হয়নি এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে।

চেয়ারম্যান বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য মানবসম্পদের উন্নয়ন করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানবসম্পদে বিনিয়োগকে আমরা বিনিয়োগ মনে করি না। এটাকে খরচের খাতায় ধরি। সে কারণে এটি পিছিয়ে আছে। আমরা একচ্যুরিয়াল ডিপার্টমেন্ট চালুর জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম। নির্দেশনা দেয়া এবং মনিটরিংয়ের কারণে সব কোম্পানিতে একচ্যুরিয়াল ডিপার্টমেন্ট চালু হয়েছে কিন্তু বেশিরভাগই নামকাওয়াস্তে। এটা শুধু প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করার জন্য।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, উন্নয়ন অনেক জায়গায় হয়েছে। দেশের উন্নয়ন অনেক অস্বাভাবিক উন্নয়ন, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিআইএ, ইনসিওরেন্স খাতে উন্নয়ন হয়নি। আপনাদের পেনিট্রেশান হার বাড়ছে না, কিন্তু সার্বিক অর্থনীতির পেনিট্রেশন বেড়ে যাচ্ছে৷ আপনারা তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না৷

তিনি বলেন, আমাদের সুযোগ বেশি আছে, সে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এ খাতের প্রতিষ্ঠান সংখ্যা হিসাব করলে দেখব অনেক দেশের চাইতে বেশি প্রতিষ্ঠান এখানে কাজ করে। বড় কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তারা খুব ভালো করছে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানই খুব বেশি ভালো করছে না।

বিআইএর একাডেমিক কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, বিআইএতে কর্মরতদের মধ্যে কোনো ওনারশিপ দেখিনি। একাডেমি যে আমাদের সে মনোভাব তাদের মধ্যে দেখা যায় না। প্রয়োজন হলে তাদের আমরা রিসোর্সও সরবরাহ করতে পারব। এদের কোর্স কারিকুলাম ডিজাইনে স্ব-উদ্যোগে তাদের এগিয়ে আসতে দেখিনি। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায়, সম্পদ বৃদ্ধি সহ একাডেমিকে শক্তিশালী করতে না পারলে একাডেমির যে উত্তরোত্তর উন্নতি সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমির পরিচালক এস এম ইব্রাহিম হোসেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন একাডেমির সাবেক পরিচালক কে.এম মোরতুজা আলী, সেনা কল্যাণ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শফিক শামীমসহ অনেকে।