চলতি বছর ভারতের চা রফতানি ১০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দেশটির রফতানিকারকরা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপ ও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতাই এর মূল কারণ। চলতি বছর রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ফেরাতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির রফতানিকারকরা। গত বছর ভারতের চা রফতানি ১৮ শতাংশ বেড়েছিল। খবর ইন্ডিয়া টাইমস।
চলতি অর্থবছর উৎপাদন নিয়েও উদ্বিগ্ন ভারতের চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা। প্রতিকূল আবহাওয়া উৎপাদন পরিস্থিতির জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত ভারতের চা রফতানি ৬ শতাংশ কমেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার কেজিতে।
২০২২ সালে শ্রীলংকায় নিম্নমুখী উৎপাদনে লাভবান হয়েছিল ভারত। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির পিছিয়ে পড়ার সুযোগে ভারত রফতানি বাড়াতে সক্ষম হয়। তবে এ বছর শ্রীলংকার চা রফতানি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে রফতানি কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার কারণেও রফতানি কমতে পারে।
ভারতীয় চা রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানোরিয়া বলেন, ‘ভারতীয় চায়ের প্রথাগত বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরান। দেশটির সঙ্গে নতুন রফতানি চুক্তি স্বাক্ষরসংক্রান্ত কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। ছয় মাস ধরে এ সমস্যা চলছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০ কোটি কেজি চার রফতানির লক্ষ্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। চলতি অর্থবছর পানীয় পণ্যটির রফতানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল থেকে সস্তা দামের চা আমদানিও রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারত সব মিলিয়ে ২২ কোটি ৮০ লাখ কেজি চা রফতানি করে।
বাগরিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান এসএস বাগরিয়া বলেন, ‘চা রফতানিকারকরা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।’ পরিস্থিতির উন্নতি হলে রফতানি আবারো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এসএস বাগরিয়া বলেন, ‘গত বছর আমরা রফতানিতে যে পরিমাণ প্রবৃদ্ধি পেয়েছিলাম এ বছর তা সম্ভব হবে না। তবে এ বছর ২০২২ সালের সমপরিমাণ রফতানি হলেও আমরা খুশি। চলতি বছর চায়ের উৎপাদন ২০ শতাংশ কমতে পারে। এল নিনো পরিস্থিতিতে উৎপাদন আরো নিম্নমুখী হয়ে পড়তে পারে।’
রাশিয়া, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রথাগত বাজারগুলোয় গত বছর রেকর্ড রফতানি প্রবৃদ্ধি এসেছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভারতীয় চায়ের চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রফতানিকারকরা জানান, রফতানি বাড়াতে তাদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাহায্য প্রয়োজন।
অংশুমান কানোরিয়া বলেন, ‘চা খাতে প্রচারণা ও অবকাঠামোগত মানোন্নয়নের জন্য আমরা এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। রফতানি বাড়াতে করণীয় সম্পর্কে চা বোর্ডকে পরামর্শ দিয়েছি। চাহিদা বাড়াতে আমাদের শীর্ষ বাজারগুলোয় আরো মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে চীনে বাজার সম্প্রসারণে বেশ ভালো সুযোগ রয়েছে। তবে প্রচারণা কার্যক্রমের জন্য চা বোর্ডের তহবিল পর্যাপ্ত নয়। আমরা এ তহবিল বাড়ানোর আবেদন জানাচ্ছি।’










