বয়স্ক জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জাপানে শ্রমঘাটতি তৈরি হয়েছে। এক দশকে সেটি পূরণে দেশটিতে বেড়েছে নেপালি শ্রমিক। ২০২২ সালে সেখানে নেপালি শ্রমিকের সংখ্যা ১৩ গুণ বেড়ে ১ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। রাফটিং গাইড, হোটেল কর্মী, বিমানবন্দর কর্মচারী ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোয় কাজ করে আসছেন তারা। তাদের বর্ধিত কর্মসংস্থান প্রভাব ফেলেছে দুই দেশের অর্থনীতিতে। খবর দ্য মাইনিচি।

মিলথুন শ্রেষ্ঠা একজন রাফটিং গাইড। নেপাল থেকে এসে জাপানে কাজ করছেন। জাপানে তার বেতন বেশি হওয়ায় এর মাধ্যমে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন। ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর জাপান যাওয়ার প্রবণতা আরো বেড়েছে। বিগ স্মাইল রাফটিংয়ের মতো কিছু কোম্পানি নেপালি শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়। নেপালের মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় জাপানের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীদের থেকে বেশি নেপালি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে আসছেন।

নেপালিদের আসার মাধ্যমে জাপানের শ্রমবাজারে জনমিতির ওপরও প্রভাব পড়েছে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থীরা একসময় জাপানে কাজ করতেন। তারা চলে যাওয়ার পর শূন্যস্থান দখল করেছেন নেপালি শিক্ষার্থীরা। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর তারা জাপানি ভাষার দক্ষতা কাজে লাগিয়েও জড়িত হচ্ছেন কোনো কর্মসংস্থানে। 

নেপালি শ্রমিকরা জাপানে বিদেশী শ্রমিকদের পঞ্চম বৃহত্তম গ্রুপ। যারা হোটেল, স্টোর, কারখানা ও রেস্তোরাঁগুলোয় কাজ করে আসছে। তারা নারিতা বিমানবন্দরে গ্রীষ্মকালীন ছুটির কর্মী জোগানে ও মহামারীপরবর্তী সময়ে হোটেল শিল্পের পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

তাদের অবদান সত্ত্বেও তাদের কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেক নেপালি শিক্ষার্থী আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও তাদের করতে হয় খণ্ডকালীন হিসেবে। জাপানি ভাষা বোঝেন এমন নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানে বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জাপানের শ্রমঘাটতি দূর করতে সহায়তা করবে।