রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয়ের অনুমতি পেয়েছে দেশটির কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত রসব্যাংক। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি অধ্যাদেশে এ অনুমতি মেলে। এর মাধ্যমে ফরাসি বহুজাতিক আর্থিক সেবা সংস্থার (এসওজিএন.পিএ) রুশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ক্রয়ের সুযোগ লাভ করেছে ব্যাংকটি। খবর রয়টার্স।

এ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে রাশিয়ার ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি কোম্পানি রসনেফট এবং দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গ্যাজপ্রমের সব ধরনের শেয়ার ক্রয় করতে পারবে ওই ব্যাংক। তবে এ বিষয়ে সোসিয়েত জেনারেল কোম্পানি এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির হাতে ২ হাজার ২৪০ কোটি ইউরোর সমপরিমাণ সম্পত্তি ছিল বলে জানিয়েছে ইউরোপিয়ান ব্যাংকিং অথরিটি (ইবিএ)।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার ফলে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুতিন।

তবে ফ্রান্সের বহুজাতিক আর্থিক সেবা সংস্থা সোসিয়েত জেনারেল কোম্পানিতে রাশিয়ার কোম্পানিগুলোর শেয়ার খুবই কম। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার গ্যাজপ্রম প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার হচ্ছে শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম হীরা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আলরোসার (এলআরএস.এমএম) শেয়ারের পরিমাণ হচ্ছে শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। সব মিলিয়ে এসব সম্পদের মূল্য শতকোটি রুবেল।

২০২২ সালের মে মাসে রাশিয়ান অলিগার্ক ভ্লাদিমির পোটানিনের সঙ্গে যুক্ত একটি ফার্ম ইন্টাররোস গ্রুপের কাছে সোসিয়েত জেনারেলের স্থানীয় ইউনিট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে রোসব্যাংক।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘‌পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের মতো।’

পশ্চিমা দেশে রাশিয়ার শতশত কোটি ডলারের রাষ্ট্রীয় সম্পদের পাশাপাশি কিছু রাশিয়ান ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। জার্মানি গত বছর রাশিয়ার মালিকানাধীন শোয়েডট তেল শোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, যা বার্লিনের ৯০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে।

একই সময়ে রাশিয়ান উদ্যোক্তারা কার্লসবার্গের আটটি ব্রুয়ারি এবং ড্যানোনস এন্টারপ্রাইজসহ রাশিয়ার প্রধান পশ্চিমা সম্পদের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ। ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল দোনেতস্ক ও লুহানস্ককে রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর এ নিষেধাজ্ঞা শুরু করে তারা। এর আগে ভ্লাদিমির পুতিন অঞ্চল দুটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এ স্বীকৃতি দেয়ার পর রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।