জুনে চীনের কয়লা আমদানি এর আগের দুই মাসের তুলনায় বেড়েছে। আগাম বিদ্যুৎ চাহিদার কথা মাথায় রেখেই আমদানি বাড়ানো হয়েছে। দেশটির শুল্ক বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছার আগেই কয়লার মজুদ পরিপূর্ণ করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো। এ কারণেই মূলত বিদেশের বাজার থেকে উন্নত মানের কয়লা আমদানির ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। 

জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। জুনে দেশটি ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। মে মাসের আমদানির পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টন। 

চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) দেশটি মোট ২২ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ।

এদিকে জানুয়ারি-মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে দেশটি ১৯১ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উত্তোলন বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। চীনের শীর্ষ কয়লা হাব শাংসি ও ইনার মঙ্গোলিয়া। এসব এলাকার ৪৪২টি প্রধান খনিতে গড় জোগানের হার কমে ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে, যা এপ্রিলে ছিল ৮৫ দশমিক ২ শতাংশ। কোল ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশন এ তথ্য জানিয়েছে।

জুনের শুরুতে চীনের বন্দর ও শীর্ষ কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় কয়লার মজুদ বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চে। আসন্ন চাহিদার কথা মাথায় রেখেই মজুদ বাড়ানো হচ্ছে। আগামী দিনগুলোয় চীনে কয়লার চাহিদা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। কারণ দেশজুড়ে তীব্র গরম আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাড়বে বিদ্যুতের চাহিদাও।

দুই বছরের লম্বা বিরতি শেষে অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে আবারো বাণিজ্য চালু হয়েছে। বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক নীতিমালাও শিথিল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে চীনের কোম্পানিগুলো অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানি বাড়াচ্ছে।

মূলত ২০২০ সালে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টান পড়লে দেশটিতে কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। এ বছরের জানুয়ারির শুরুতে বেইজিং চারটি স্থানীয় কোম্পানিকে অস্ট্রেলিয়ান কয়লা আমদানির অনুমতি দেয়। চারটি কোম্পানিই রাষ্ট্রমালিকানাধীন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক কয়লা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটে।

বিশ্লেষকরা জানান, চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া কয়লা রফতানির ক্ষেত্রে দ্বিতীয়। দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য পুরোপুরিভাবে চালু হলে কয়লার আন্তর্জাতিক বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে।