ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা বলছেন, উপসাগরের বাণিজ্যিক রাজধানী দুই প্রতিবেশীর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

নির্বাহীরা বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সাম্প্রতিক মাসগুলোয় করপোরেট নিবন্ধন ও ইরানি কোম্পানিগুলোকে ভিসা প্রদানের সীমা তুলে নিয়েছে। যদিও ইরানের ওপর এখনো কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল। ফলে ডলারে বৈদেশিক বাণিজ্য করতে পারছে না দেশটি। বৈধ আর্থিক লেনদেনের বিকল্প কোনো আর্থিক মেকানিজম তৈরি করে কীভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বাড়ানো যায় সে উপায় খুঁজছেন ইরানি অর্থদাতারা।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সম্পর্ক, পুনঃরফতানির ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র ইরান এসব বিবেচনায় নিয়ে উপসাগরীয় আঞ্চলিক সংঘাত পাশ কাটিয়ে দেশ দুটি ব্যবসা-বাণিজ্যে ফোকাস করছে। ২০১১ সালের আরব বসন্তের এক দশক পরে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে দুই প্রতিবেশী।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো আফশিন মোলাভি বলেছেন, ‘ইউএই পররাষ্ট্র নীতি এমন একটি দিকে সরে গেছে বলে মনে হচ্ছে, যা মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।’ তবে তিনি মনে করেন ইরানের ওপর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিষেধজ্ঞার কারণে এ অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বর্তমানে চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও ইউএই দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ইরানের তথ্যানুসারে, ২০২০-২১ সালে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। মহামারী দুর্দশা কাটিয়ে পরবর্তী ১২ মাসে দেশ দুটি ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্পর্ক গড়েছে।