করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
তবে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতে সেফ হ্যাভেন বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে কদর বাড়ছে স্বর্ণের।
ফলে দেশে দেশে মূল্যবান ধাতুটির উত্তোলন বাড়ছে।
কিন্তু বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে চলতি বছর স্বর্ণ উত্তোলনে পিছিয়ে পড়ে নেতৃস্থানীয় দেশ চীন।
এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ স্বর্ণ উত্তোলনকারী দেশের মুকুট দখল করেছে অস্ট্রেলিয়া।
বছরের প্রথমার্ধে দেশটির স্বর্ণ উত্তোলন লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
চাহিদা থাকায় এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে দেশটির সরকার।
খবর এবিসি নিউজ।
২০০৭ সালের পর থেকে টানা ১৫ বছর বৈশ্বিক স্বর্ণ উত্তোলনে প্রথম স্থান দখল করে ছিল চীন।
অন্যদিকে প্রায় এক দশক ধরে দ্বিতীয় দখলে ছিল অস্ট্রেলিয়ার।
স্বর্ণের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সারবিটন অ্যাসোসিয়েটস জানায়, এ বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ১৫৩ টন স্বর্ণ উত্তোলন করে চীন।
বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ১৫৭ টন।
উত্তোলনের এমন ব্যবধান অস্ট্রেলিয়াকে শীর্ষ স্থানে উঠে আসতে সহায়তা করেছে।
সারবিটন অ্যাসোসিয়েটসের পরিচালক সান্ড্রা ক্লজ বলেন, প্রথম বারের মতো শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার উত্তোলন বৃদ্ধির কারণে চীন পিছিয়ে পড়েনি।
আমি মনে করি, নিরাপত্তাজনিত কিছু কারণে চীনের স্বর্ণ উত্তোলন খনিগুলোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি মারা গেছেন।
বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে।
এসব কারণেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের স্বর্ণ উত্তোলন ব্যাহত হয়।
আগামী ছয় মাসে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণ উত্তোলন খাতে কী ঘটে তা দেখতে হবে।
এদিকে শুধু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নয়, বরং দুই বছর ধরেই অস্ট্রেলিয়ার স্বর্ণ উত্তোলনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত আছে।
২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটির ভূগর্ভ থেকে ৩২৮ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়, যা এক বছরের সর্বোচ্চ উত্তোলন।
গত অর্থবছর মূল্যবান ধাতুটি উত্তোলনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফলতা পায় অস্ট্রেলিয়া।
ওই বছর ৩২১ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়।
সান্ড্রা ক্লজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য স্বর্ণ উত্তোলক দেশগুলোর তুলনায় আমাদের অনেক বেশি ছোট ছোট খনি রয়েছে।
এটি অনেক ক্ষেত্রে আমাদের জন্য সুবিধাজনক।
শিল্পবাজার-বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইবিআইএসওয়ার্ল্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান স্বর্ণ খাতে আয় বাড়ছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
করোনা মহামারীর প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগ খাতে স্বর্ণের ব্যবহার বাড়ছে।
এ কারণে বছর শেষে স্বর্ণ খাত থেকে প্রাপ্ত আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।
পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজারও আয় প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস এক প্রতিবেদনে জানায়, স্বর্ণ অনুসন্ধানে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ান সরকার।
বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিনিয়োগের পরিমাণ অন্যান্য পণ্যের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪২ কোটি ৯৮ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।
এদিকে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানায়, গত বছর মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা কমে ১১ বছরের সর্বনিম্নে নেমে গেলেও এ বছর চাহিদা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে ৯ শতাংশ। পণ্য খাতে ভোক্তা বিনিয়োগ স্বর্ণের চাহিদাকে ৯৫৫ দশমিক ১ টনে উন্নীত করেছে।










