২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে পাকিস্তানে রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন হলেও তা দেশীয় ব্যবহার চাহিদার জন্য অপ্রতুল। দেশটিতে কৃষিপণ্যটির চাহিদা ক্রমে বাড়ছে। ফলে কৌশলগত মজুদ বৃদ্ধির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের যেসব দেশে জনসংখ্যার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ, তার মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশটিতে গমের চাহিদা বাড়ছে। ফলে ব্যবহার ও মজুদ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য অর্জনে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন স্থানীয় উৎপাদন অথবা আমদানি বৃদ্ধি করা।
ইউএসডিএ জানায়, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমের জন্য পাকিস্তানের গম আমদানির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে ২০ লাখ টন গম আমদানির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল ইউএসডিএ।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যদিও চলতি বছরের জুনে ২০২১-২২ মৌসুমের জন্য ৩০ লাখ টন গম ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল পাকিস্তান সরকার। কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেনা হয়েছে মাত্র ৫৭ হাজার টন। তবে দেশটির সরকার অক্টোবরের শুরুতে সরবরাহের জন্য সম্প্রতি ১ লাখ ১০ হাজার টন গম ক্রয় করেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এসব গম কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়। আশা করা হচ্ছে মৌসুমের বাকি সময়গুলোতেও এ অঞ্চল থেকে গম আমদানি অব্যাহত রাখবে দেশটি। মূলত দাম ও গুণগত মানের দিক থেকে সুবিধা পাওয়ায় এ অঞ্চলের গমের প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে পাকিস্তানের।
ইউএসডিএর তথ্য বলছে, আফগানিস্তানে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা পাকিস্তানে গমের চাহিদা আরো তীব্র করে তুলবে। কারণ আফগানিস্তান দেশীয় ময়দার চাহিদার প্রায় পুরোটাই পাকিস্তানের কাছ থেকে আমদানি করে। এটি পাকিস্তানের গম আমদানি খাতকে আরো বেশি চাপের মধ্যে ফেলেছে।










