বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ১০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও আজারবাইজান। গঠিত তহবিল থেকে জ্বালানি ও সেবা, খাদ্য ও কৃষি, স্বাস্থ্য ও জীববিজ্ঞান এবং মোবিলিটি ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ করা হবে। খবর গালফ নিউজ।

ইউএইর আবুধাবিভিত্তিক ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিং কোম্পানি (এডিকিউ) এবং আজারবাইজান ইনভেস্টমেন্ট হোল্ডিং (এআইএইচ) যৌথভাবে এ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তহবিল সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কৌশলগত এ তহবিল গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ তহবিল কৃষি, প্রযুক্তি, ওষুধ ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে একটি যৌথ মূলধন হিসেবে কাজ করবে।

১০০ কোটি ডলার মূল্যের প্লাটফর্মটি পারস্পরিক অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেবে। বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর টেকসই আর্থিক রিটার্ন পাওয়ার জন্য অর্থায়নের সুযোগ খুঁজবে এবং আয় বৃদ্ধি করবে।

সূত্রটি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আজারবাইজান, ইউএই এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোয় বিনিয়োগ করা হবে। ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্লাটফর্মটিতে এডিকিউ এবং এআইএইচ উভয়ই ৫০ কোটি ডলার পরিমাণ অর্থায়ন করবে। যেখান থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৫০ শতাংশ করে অংশীদার হবে দুই কোম্পানি।

২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এআইএইচ একটি কৌশলগত তহবিল, যা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করে থাকে। 

উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এআইএইচ সক্রিয়ভাবে আজারবাইজানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অংশগ্রহণ করে থাকে। 

নতুন যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এটি আরো শক্তিশালী হলো।

এডিকিউয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ হাসান আল সুওয়াইদি বলেন, ‘‌যৌথ এ বিনিয়োগ প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠা, আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।’

আজারবাইজানের অর্থমন্ত্রী ও এআইএইচের সুপারভাইজরি বোর্ডের সদস্য মিকাইল জাব্বারভ বলেন, ‘‌এ অংশীদারত্ব দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের তাৎপর্যের প্রতিফলন। নতুন তহবিলটি নিজ নিজ দেশ ও বৃহত্তর অঞ্চল দীর্ঘমেয়ারি উন্নয়নের লক্ষ্যে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি উপকরণ হিসেবে কাজে লাগাবে।’

১৯৯২ সাল থেকে ইউএই ও আজারবাইজান উভয় দেশ নিজেদের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এতে গত পাঁচ বছরে তেলবহির্ভূত বাণিজ্যের আর্থিক মূল্য তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থের ক্ষেত্রগুলো এখনো অন্বেষণ করে চলেছে দুই দেশ।