ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধি ও রাশিয়ার অস্থিতিশীলতা নিয়ে বৈশ্বিক অঙ্গনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। কিন্তু সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, ম্যানিলা ও জাকার্তাসহ এশীয় পুঁজিবাজার উদ্বেগ কাটিয়ে উঠছে, ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। খবর এএফপি।

পূর্ব ইউরোপের ঘটনা প্রবাহ কমে আসায় সবার মনোযোগ ফিরেছে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির দিকে। মূল্যস্ফীতির কারণে চলতি বছরে বৈশ্বিক বাজারগুলো মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েলের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন, সুদহার আরো বাড়ানো দরকার হতে পারে। যদিও ফেডারেল রিজার্ভ চলতি মাসে স্থবির ছিল, রিজার্ভ প্রধানের মন্তব্যটি এমন সময় এসেছে, যখন অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ঋণের ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। পাশাপাশি ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন আরো ঋণের ব্যয় সামনের পাইপলাইনে রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ বলেছে, জুলাইয়ের শেষে পরবর্তী নীতিনির্ধারণী সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সভা থেকে পাওয়া তথ্য দ্বারা নির্ধারিত হবে ও ফেড ব্যক্তিগত ভোগ ব্যয়ের আসন্ন দিকনির্দেশনা দেবে, যা ব্যাংকের মূল্যস্ফীতির পরিমাপ করার অন্যতম পদ্ধতি। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বিনিয়োগকারীরা এরই মধ্যে আরো বেশি চাপের সম্মুখীন। একই সঙ্গে আশঙ্কা করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নীতির কারণে অর্থনীতি মন্দার পথে এগোতে পারে। যেমনটা ঘটেছিল ইউরো জোনে।

ব্লুমবার্গকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অ্যামেরিপ্রাইজ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ন্যান্সি দাউদ বলেন, ‘‌আমি নিশ্চিত নই যে পুরো মূল্যস্ফীতির চক্রের প্রভাব অনুভব করতে পেরেছি। জুলাইয়ে প্রথম দিকে এ হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বেশির ভাগ এশিয়ান পুঁজিবাজারে হওয়া ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে। যেমন হংকং টানা পাঁচদিনের পতনের পরে ১ শতাংশেরও একটু ওপরে বেড়েছে। তার সঙ্গে সাংহাই, সিডনি, সিঙ্গাপুর, ম্যানিলা ও জাকার্তাও বাজারদর বেড়েছে। তবে টোকিও, সিউল, ওয়েলিংটন ও তাইপেই অঞ্চল তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। 

তেলের দাম আবারো বেড়েছে। যদিও ব্যবসায়ীরা রাশিয়ার সংকটের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ও চাহিদার অনিশ্চয়তা ছিল। আর তার ওপরে বিনিয়োগকারীরা সুদহার বৃদ্ধির কারণেও চিন্তিত। পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের প্রথম মাস থেকে রুশ মুদ্রা রুবল ক্ষতির মুখে পড়ে, তাই এখন মস্কোর উন্নয়নকার্যের দিকে সবার মনোযোগ। রুশ প্রসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের অভিযুক্ত করে জানান, ‌ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের ওয়াগনার গ্রুপের ভাড়াটে সৈন্যদের বিদ্রোহের সময় রাশিয়ানরাই একে অন্যকে হত্যা করতে চেয়েছে। প্রিগোজিন মূলত তার যোদ্ধাদের বাঁচাতে ও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা তুলে ধরতেই বিদ্রোহ করেছিলেন, ক্রেমলিনকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য নয়। মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছে, তাদের কর্মকর্তারা ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন।’

এদিকে চীন-মার্কিন সম্পর্কের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন আগামী মাসে চীনের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বেইজিং সফরের পরিকল্পনা করেছেন। সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সফরের পর পরই এমন আলোচনার প্রসঙ্গ এল, যেখানে তিনি রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাছাড়া শি জিনপিং ও প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মধ্যেও শীর্ষ বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।