গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। ‘ব্যাংকার্স সভা’ নামে পরিচিত ওই বৈঠকে দেশের সবক’টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী অংশ নেন।
বৈঠক শেষে এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটি ঘিরে চলমান অস্থিরতা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো ব্যাংক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’
মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমরা একটি স্থিতিশীল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চাই। গভর্নরও একই অবস্থানে আছেন। দেশের বৃহত্তম ব্যাংকটির সংকট দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন এবং এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা জরুরি। গভর্নর আমাদের কাছে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গভর্নর বলেছেন, বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। দেখা যাক কী করা যায়। কীভাবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করা যায়।’
প্রতি ত্রৈমাসিকে দেশের সব ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে ‘ব্যাংকার্স সভা’ হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। তবে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম এ সভা অনুষ্ঠিত হলো। এতে নিয়মিত আলোচ্যসূচির বাইরে ইসলামী ব্যাংকের বিরাজমান সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গভর্নর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করতে বলেছেন। একই সঙ্গে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) সঠিক তথ্য দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।’
বৈঠকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় হাইব্রিড অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত বলে মত দেন শীর্ষ নির্বাহীরা। গভর্নর তাতে সায় দিয়েছেন বলে জানান এবিবি চেয়ারম্যান। এছাড়া ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ১৮(ক) ধারা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিধানটি বাতিলের পথে রয়েছে এবং গভর্নরও প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছেন।’
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে গতকালও বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মিছিল শেষ হয় সচিবালয়ের সামনে গিয়ে। গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে স্মরকলিপি জমা দেন।
নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ার জেরে গতকালও ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেয়ার ভিড় দেখা গেছে। নগদ টাকার সংকটের কারণে অনেক গ্রাহককে ব্যাংকটি আমানতের অর্থ ফেরত দিতে পারেনি বলেও জানা গেছে। চলতি মাসের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে আমানত উঠে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম এ ব্যাংকটি সিআরআর ঘাটতিতে পড়েছে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা ধার চাইলে সেটি এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।









