মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের কিছু নথি ভুলভাবে ডাউনলোড করেছিলেন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের চীনা কর্মচারীরা। পাশাপাশি রফতানি বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগও ওঠে। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটেছে সম্প্রতি। যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র বিভাগের সঙ্গে ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের নিষ্পত্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এ এয়ারক্রাফট জায়ান্ট। খবর রয়টার্স।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, ২০১৭-২২ সালের মধ্যে বোয়িংয়ের কয়েকজন আন্তর্জাতিক কর্মী আইন লঙ্ঘন করেছে। এ নিষ্পত্তি চুক্তির ফলে মার্কিন অস্ত্র রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইন ও আন্তর্জাতিক ট্রাফিক আইন আর্মস রেগুলেশন অনুযায়ী ১৯৯টি আইনের লঙ্ঘনের সমাধান হবে।
অবশ্য কিছু অভিযোগ আরো পুরনো। ২০১৩-১৭ পর্যন্ত চীনে বোয়িংয়ের তিনজন কর্মী মার্কিন এফ-১৮, এফ-১৫, এফ-২২ যুদ্ধবিমান, আকাশ সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ই-৩, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং এজিএম৮৪ই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্য ডাউনলোড করেছিল।
এদিকে বোয়িং জানিয়েছে, ২০১৩-১৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইতালি, জাপান, কেনিয়া, মরক্কো, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান, ইউক্রেন ও যুক্তরাজ্যসহ ১৮টি দেশে বোয়িং ও তার অংশীদাররা অননুমোদিতভাবে তথ্য ডাউনলোড করেছিল।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বোয়িং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা ঘোষিত চুক্তির অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
এদিকে প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, ইসরায়েল, তুরস্ক ও লেবাননসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কিত তথ্যের অননুমোদিতভাবে লেনদেনের সঙ্গেও বোয়িং জড়িত ছিল। বোয়িং স্বেচ্ছায় আইন লঙ্ঘনগুলোর বিষয়টি প্রকাশ করে। যার বেশির ভাগই ২০২০ সালের আগে ঘটেছে।
এ নিষ্পত্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তিন বছরের সম্মতি চুক্তি ও ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের জরিমানা। যার মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ছাড় দেবে পররাষ্ট্র বিভাগ, যা বোয়িং তার কমপ্লায়েন্স প্রোগ্রামকে শক্তিশালী করার জন্য তহবিল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া কমপক্ষে দুই বছরের জন্য বোয়িংকে চুক্তি তদারকি করার জন্য বিশেষ কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগ করতে হবে। যার জন্য দুটি নিরীক্ষারও প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।










