প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ এবং মাংসের তুলনায় সস্তা হওয়ায় বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় খাবার ডাল। এছাড়া শস্যটি প্রাকৃতিকভাবে মাটি উন্নতকরণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস শোষণকারী এবং টেকসই বৈশিষ্ট্যের কারণেও জনপ্রিয়। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে রাবোব্যাংক ডালকে এমন একটি ফসল হিসেবে চিহ্নিত করেছে যা ‘নতুন ও বিদ্যমান বাজার ব্যবসায়ীদের জন্য একটি লাভজনক খাত হয়ে উঠতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম কৃষি ব্যবসার কোম্পানিগুলোও এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
বিশ্ববাজারের প্রধান ডাল উৎপাদন ও সরবরাহকারী হিসেবে অনেক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কলম্বিয়া গ্রেইন ইন্টারন্যাশনালের (সিজিআই) অবস্থান। সিজিআই ডাল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় এর প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। বিশ্লেষকরা আগামী দশকে ডালপণ্যের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়বে বলে পূর্বাভাস জানিয়েছেন। তাই এডিএম, কারগিল ও বঞ্জের মতো অন্যান্য প্রধান মার্কিন কোম্পানিগুলো এ খাতে তাদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডালের বাজারে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক লুইস ড্রেইফাস কোম্পানি। এটি আগস্টের শেষের দিকে ডালের বাণিজ্যিকীকরণে একটি নতুন ব্যবসায়িক ইউনিট তৈরি করার ঘোষণা দিয়েছে। এলডিসির সিইও মাইকেল গেলচি বলেন, ‘নতুন এ ব্যবসায়িক ইউনিট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত আমাদের কৌশলের সঙ্গে মিল রেখে নেয়া হয়েছে। এটি গ্রাহকের জন্য বিকল্প পুষ্টি ও টেকসইয়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে চায়।
তিনি আরো বলেন, ‘লুইস ড্রেইফাস এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পূর্ব আফ্রিকার মতো প্রধান ডাল উৎপাদনকারী দেশ এবং ভারত, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো প্রধান ভোক্তা বাজারে ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
প্রতিবেদনে রাবোব্যাংক জানায়, ডালের বাজারে নতুন নতুন ব্যবসায়ীদের উত্থান হচ্ছে। রাশিয়া ও আর্জেন্টিনা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ডালের রফতানি বাড়িয়েছে। তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা ডালের প্রধান প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক গ্রেইনস কাউন্সিলের (আইজিসি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক ডাল উৎপাদন ১০ কোটি টনে পৌঁছতে পারে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি বছর এ পণ্যের বাণিজ্য ২ কোটি ১০ লাখ টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
তবে ডালজাতীয় পণ্যগুলোকে শস্য হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা উচিত কিনা তা নিয়ে বহু বছর ধরেই বিতর্ক ছিল। উৎপাদন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আইজিসি ২০২১ সালে শস্যের সংজ্ঞায় ডাল অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর এ ফসলের বাজার তথ্যও সম্প্রসারিত হয়। তবে পণ্যটির মূলধারার শস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেতে আরো কিছু বাধা রয়েছে। রাবোব্যাংক প্রতিবেদনের লেখক ভিটো মার্টেলি বলেন, ডালকে এখনো পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং শিল্পে প্রবেশের জন্য কিছু বাধা রয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ডালের দাম ঘন ঘন পরিবর্তনশীল এবং দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়ায়ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হলে একটি বিশ্ববাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে ডাল ফসলকে বিবেচনা করা হতে পারে।’










