চীনে ২০২২ সালে অ্যালুমিনিয়াম আমদানি ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। কভিড-১৯ সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে এ সময় ধাতুটির ব্যবহার তলানিতে নেমে যায়। তার ওপর স্থানীয় উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছলে বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বছর বিশ্বের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন অপরিশোধিত অ্যালুমিনিয়াম ও অ্যালুুমিনিয়ামজাত পণ্য আমদানি করেছে। ২০২১ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ টন। ওই বছর স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প খাতসংশ্লিষ্টরা বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করেন।
গত বছর পাল্লা দিয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়লে জিরো কভিডনীতি গ্রহণ করে চীন। আরোপ করা হয় কঠোর লকডাউন ও বিধিনিষেধ। এর ফলে অবকাঠামো নির্মাণ, পরিবহন ও প্যাকেজিং খাতে ব্যবহূত ধাতুটির বাজার মন্দার মুখে পড়ে। তার ওপর আবাসন খাতে অস্থিরতা বাজারকে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। ধস নামে ধাতুটির চাহিদায়।
গত বছর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতির দেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্ধশতকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। ফলে অ্যালুমিনিয়ামসহ অন্যান্য ধাতুর ব্যবহার তলানিতে নেমে আসে।
এদিকে জ্বালানি সংকট শিথিল হওয়ায় গত বছর বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেয়া হয়। এতে স্থানীয় বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ধাতুটির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাপক বেড়েছে। প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়ামের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৪ কোটি ২ লাখ ১০ হাজার টনে।
স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়তে থাকায় আমদানীকৃত অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা গত বছর নিম্নমুখী হয়ে ওঠে। এছাড়া স্থানীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামও আমদানিকে নিরুৎসাহিত করেছে। সব মিলিয়ে দেশটিতে গত বছর অ্যালুমিনিয়াম আমদানির অনুকূল পরিবেশ ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে অ্যালুমিনিয়াম আকরিকের প্রধান উৎস বক্সাইট আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার টনে। ২০২২ সালে মোট বক্সাইট আমদানির পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টন। ২০২১ সালে আমদানি হয়েছিল ১০ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টন। সে হিসেবে আমদানি ১৭ শতাংশ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন একে একে কভিডসংক্রান্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠিয়ে নিচ্ছে। সর্বশেষ দেশটি ভ্রমণের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ কারণে আগামী মাসগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










