ন্যূনতম মজুরিও পান না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অভিবাসী গৃহকর্মীরা। কাজের পরিবেশ সুবিধাজনক নয়। দক্ষতা অনুসারে দায়িত্ব প্রদান, যোগাযোগ ও সহাবস্থান বিবেচনায় উপযোগী না অভিবাসী গৃহকর্মীদের কর্মজীবন। এমনটাই উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) চালানো সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
জরিপ চালানো হয়েছে ৬১০ জন চাকরিজীবী ও ১ হাজার ২০১ জন অভিবাসী শ্রমিকের ওপর। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে চালানো জরিপে দেখা যায়, নির্ধারিত ন্যূনতম বেতনের চেয়ে কম মজুরি পাচ্ছেন তারা। সিঙ্গাপুরে গৃহকর্মীদের কর্মঘণ্টা বাকি তিন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গড়ে প্রতিদিন ১২ দশমিক ৮ ঘণ্টা করে কাজ করেন তারা, সপ্তাহে ৮১ ঘণ্টা। অর্থাৎ দেশটির জাতীয় আইনে যে আদর্শ কর্মঘণ্টা স্থাপন করা হয়েছে, বাস্তবে কাজ করতে হয় তার দ্বিগুণ। সিঙ্গাপুরে আদর্শ কর্মঘণ্টা ৪৪ ঘণ্টা হিসেবে নির্ধারিত।
অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বিবেচনায় নিয়েই গড়ে মাসিক বেতন ৪৮০ মার্কিন ডলার। অতিরিক্ত ঘণ্টা বিবেচনায় ধরে তাদের পারিশ্রমিক বেঁধে দেয়া মজুরির অনেক নিচে। অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন ব্যয় ও নানা রকম ফি মিলিয়েই তিন মাসের মজুরির সমান। সে খরচটা দিতে হয় তাদের আমানত, বেতন কেটে কিংবা ঋণ করে। যখন বল প্রয়োগপূর্বক আদায় করা হয় কিংবা কাজ না করলে সাজার ঝুঁকি থাকে, এমন কাজকে আইএলও জোরপূর্বক শ্রম হিসেবে আখ্যায়িত করে। দেশজুড়ে এমন শ্রমের নজির মিলেছে জরিপে। সেক্ষেত্রে ওভারটাইম কাজ না করে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেনি বা তাদের থেকে জোর করে অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ২৯ শতাংশ শ্রমিক জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের পরিস্থিতিতে রয়েছেন, যা সিঙ্গাপুরের ৭ শতাংশের সমান। অর্থাৎ ১৭ হাজারের বেশি অভিবাসী শ্রমিক এমন পরিস্থিতিতে রয়েছেন। থাইল্যান্ডের বেলায় পরিমাণটা ৪ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে ছিল ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ জন। আইএলওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করেন, ঘরোয়া কাজ সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে পরিগণিত। অথচ সবচেয়ে কম সুরক্ষা থাকে সেখানে।
কর্মপরিবেশের নাজুক অবস্থা শ্রমিকের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ঘরোয়া কাজকে প্রায় কাজ বলেই গণ্য করা হচ্ছে না। অভিবাসী শ্রমিকদের কাজ থেকে কর্মপরিবেশ কিংবা সামাজিক সুরক্ষার বাইরে নিয়ে যাওয়ার মানে হলো তাদের প্রত্যাশিত নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত করা। ঘরোয়া কাজকে যদি কাজই মনে না করা হয়, তাহলে বাজারে চাহিদার বহুমাত্রিকতা মিলবে না। সিঙ্গাপুরে গৃহকর্মীদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০১৭ সালে সেখানে হাউজহোল্ড সার্ভিস স্কিম চালু হয়, তা বর্ধিত করা প্রয়োজন। তাতে গৃহকর্মীরা নিরাপত্তার অধিকার ও মজুরির নিশ্চয়তা লাভ করবে। লি কুয়ান ইয়েউ স্কুল অব পাবলিক পলিসি সহযোগী অধ্যাপক টেরেন্স হো দাবি করেছেন, কর্মপরিবেশের মান বাড়ানোর জন্য সচেতনতা সবার আগে জরুরি।










