ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব নাইজেরিয়া (সিবিএন)। ফলে এখন থেকে লেনদেনের কাজে বিটকয়েনের মতো ভার্চুয়াল কারেন্সি ব্যবহার করা সম্ভব হবে দেশটিতে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো সম্পদে লেনদেন এবং লেনদেন করার ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে সিবিএন।
পরবর্তী সময়ে গত বছরের মে মাসে নাইজেরিয়ার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ডিজিটাল সম্পদের জন্য একটি প্রবিধান প্রকাশ করে। ওই প্রবিধানে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটি ক্রিপ্টো সম্পদের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও তাদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী স্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
২২ ডিসেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে সিবিএন জানায়, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে ভার্চুয়াল অ্যাসেট সার্ভিস প্রভাইডারদের (ভিএএসপি) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন রয়েছে। তার মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ক্রিপ্টো সম্পদও অন্তর্ভুক্ত।
সর্বশেষ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবে, কীভাবে সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্ট ও সেটেলমেন্ট সেবা প্রদান করবে, কীভাবে ক্রিপ্টো সম্পদে লেনদেনকারী সংস্থাগুলোর জন্য বিদেশী মুদ্রা প্রবাহ এবং বাণিজ্যের চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে। ক্রিপ্টো ব্যবসায় জড়িত হতে হলে ভিএএসপিকে নাইজেরিয়ান এসইসি থেকে লাইসেন্স করতে হবে।
সিবিএন জানায়, এখন থেকে ভার্চুয়াল বা ডিজিটাল সম্পদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেবে না। যদি না সে অ্যাকাউন্টটির উদ্দেশ্য অনুমোদিত হয় ও নির্দেশিকাগুলো মেনে খোলা হয়। তবে ব্যাংকগুলো এখনো ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণ, ব্যবসা ও লেনদেনের বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে।
নাইজেরিয়ার তরুণ ও প্রযুক্তি সচেতন জনগোষ্ঠী ক্রিপ্টোকারেন্সি আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। আর্থিক খাত এড়াতে তারা ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে অফার করা পিয়ার টু পিয়ার ট্রেডিং ব্যবহার করে।
নিউইয়র্কভিত্তিক ব্লকচেইন গবেষণা সংস্থা চেইন্যালাইসিস সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে বলেছে, নাইজেরিয়ায় বছরওয়ারি ক্রিপ্টো লেনদেনের পরিমাণ ৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার।










