দেশের বাজারে হঠাৎ কাঁচা মরিচের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে ডাবল সেঞ্চুরি হাকে। এমন অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রনে ভারত থেকে কাচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।হিলিসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হলে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিকেজি কাচামরিচ আমদানিতে বন্দর পর্যন্ত পৌছতে ৭৫/৭৬টাকা পড়লেও বাজারে দেশীয় কাচামরিচ ৬০/৭০টাকা বিক্রি হচ্ছে । এতে কাঁচা মরিচ আমদানিতে লোকশান হওয়ায় বন্দর দিয়ে কাচামরিচ বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেলে দীর্ঘ ৮মাস বন্ধের পর বন্দর দিয়ে চলতি আগষ্ট মাসের ১৪তারিখে দুটি ট্রাকে ২৩ হাজার ৫৬২কেজি কাচামরিচ আমদানির মধ্য দিয়ে বন্দর দিয়ে পুনরায় কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়। ১৬ আগষ্ট বন্দর দিয়ে ১টি ট্রাকে ১৩ হাজার ২২৪কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়। দেশের বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কিন্তু এর পর থেকে বন্দর দিয়ে আবারো কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ রয়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারনে দেশে কাঁচামরিচের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমায় কাচামরিচের দাম বেড়ে অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় দাম নিয়ন্ত্রনে আনতে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয় ও আইপি প্রদান শুরু করে সরকার।
কয়েকদিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি হলেও আইপি পাওয়া স্বাপেক্ষে দীর্ঘ ৮মাস বন্ধের পর ভারত থেকে গত ১৪ আগষ্ট শনিবার থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। এদিন বন্দর দিয়ে ২টি ট্রাকে ২৩ হাজার ৫৬২ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। এতে করে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বাড়ায় দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রনে চলে আসে।
একইভাবে ১৬ আগষ্ট বন্দর দিয়ে ১টি ট্রাকে ১৩ হাজার ২২৪কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়। ভারতের কানপুর অঞ্চল থেকে প্রতিটন কাঁচামরিচ ৩শ মার্কিন ডলার মুল্যে দেশে আমদানি করা হচ্ছে যা কেজি প্রতি বাংলা ২৫ টাকা করে পড়ছে। এর সাথে ভারত থেকে কাঁচামরিচ দেশের বন্দর পর্যন্ত আসতে পরিবহন খরচ বাবদ কেজি প্রতি ২৫টাকা করে খরচ পড়ছে, এর পরে আমদানিকৃত কাঁচামরিচ কেজি প্রতি শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে ২৫ টাকা ৫০ পয়সা এতে করে প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৭৬টাকা পড়েই যাচ্ছে।
এছাড়া পণ্যের ঘাটতি, পণ্য পচে নষ্ট হওয়ার বিষয়তো রয়েছে। সবমিলিয়ে আমদানিকৃত এসব কাঁচামরিচ মান ভালো থাকলে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হলে তাতে করে কিছুটা লাভ হতো। কিন্তু প্রথম দিনে আমদানি হওয়া কাঁচামরিচ বন্দরে ক্রেতা না থাকায় তা বিক্রির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হলে তা বিক্রি হয় সর্বচ্চো ৬০টাকা ও সর্বনিন্ম৩০টাকা কেজি দরে।একইভাবে ১৬তারিখে আমদানিকরা কাঁচামরিচ ঢাকায় বিক্রি করা হয় ৬০টাকা কেজি দরে। তাতে করে কাঁচামরিচ আমদানি করে বেশ কয়েকলাখ টাকা লোকশান গুনতে হয়েছে।
একইভাবে প্রথমদিকে দেশের বাজারে যেভাবে আমদানিকৃত কাচামরিচের চাহীদা ছিল ও দাম ছিলো এখন সেরকম চাহীধা নেই। এর কারন হলো ইতোমধ্যেই দেশের বাজারে দেশীয় কাঁচামরিচের দাম কমে আসছে বর্তমানে দেশীয় কাচামরিচ ৬০ থেকে ৭০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যার কারনে কাঁচামরিচ আমদানিতে পড়তা না থাকায় ও বিপুল পরিমান অর্থ লোকশান গুনতে হওয়ায় আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। যদি আবারো দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম ও চাহীদা বাড়ে সেক্ষেত্রে আবারও বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি করা হবে।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি চলতি আগষ্ট মাসের ১৪তারিখে বন্দর দিয়ে দীর্ঘ ৮মাস পর পুনরায় কাচামরিচ আমদানি শুরু হয়। এই দিন বন্দর দিয়ে দুই ট্রাকে ২৩ হাজার ৫৬২কেজি কাচামরিচ আমদানি হয়।
এর পর ১৬আগষ্ট বন্দর দিয়ে ১টি ট্রাকে ১৩ হাজার ২২৪কেজি কাচামরিচ আমদানি হয়। কিন্তু এর পর থেকে আবারো বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত আর কোন কাঁচামরিচ বন্দরে প্রবেশ করেনি।










