পণ্য বাণিজ্য দেড় ট্রিলিয়ন ডলার কমায় বিশ্ব বাণিজ্য গত বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে ৫ শতাংশ সংকুচিত হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) জানায়, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য ৩০ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন (১ ট্রিলিয়ন=১ লাখ কোটি) ডলারে পৌঁছবে, যা ২০২২ সালের রেকর্ড উচ্চতার তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার কম। খবর খালিজ টাইমস।

এ সময় আন্তর্জাতিক পরিসরে পণ্য ও সেবা উভয় খাতেই বাণিজ্য কমবে। এর মধ্যে পণ্য বাণিজ্য কমবে ২ ট্রিলিয়ন ডলার বা ৮ শতাংশ। সেবা খাতে বাণিজ্য বাড়বে ৫০ হাজার কোটি ডলার বা ৭ শতাংশ।

উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে রফতানি কমায় এ সংকোচনের মুখে পড়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য। আঙ্কটাড জানায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভূরাজনৈতিক দ্বৈরথ এবং পারস্পারিক নির্ভরশীলতা কমে আসায় বিশ্ব বাণিজ্য প্রভাবিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, গভীর বৈষম্য, ক্রমবর্ধমান ঋণ ও কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অমসৃণ হওয়ায় ২০২২ সালের ৩ থেকে ২০২৩ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪ শতাংশে নামবে।

প্রবণতাটি ২০২৪ সালেও বিদ্যমান থাকবে। আগামী বছর বিশ্ব বাণিজ্যে ‘‌অত্যন্ত অনিশ্চিত ও হতাশাজনক’ চিত্র দেখা যাবে। দেশ ও অঞ্চলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য বজায় থাকবে।

২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাণিজ্য বৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়েছে, যা অব্যাহত চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের চিত্র এখনো অনিশ্চিত, কিন্তু সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক। যদিও কিছু অর্থনৈতিক সূচক সম্ভাব্য উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তার পরও ক্রমাগত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চমাত্রায় ঋণ এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বিশ্ব বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আঙ্কটাডের তৈরি গ্লোবাল ট্রেড আপডেট প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য তীব্রভাবে কমছে। পূর্ব এশিয়ায় গড় বাণিজ্য নিম্নমুখী থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে রফতানি কম হচ্ছে।

ইউক্রেনে যুদ্ধ, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন-চীন বাণিজ্য সম্পর্কের ঝুঁকিগুলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বাধা তৈরি করছে। এগুলো সরাসরি অর্থনৈতিক লেনদেনকে প্রভাবিত করে না, বরং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে। এছাড়া কয়েকটি দেশে উচ্চ সুদহারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাণিজ্য সংস্থাটি উল্লেখ করেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে জড়িত দ্রব্যমূল্যের অস্থিরতা। আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এ প্রবণতা আরো বাড়িয়ে দেবে।

বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সরবরাহ চেইনকে যতটা প্রভাবিত করে, ততটাই প্রভাবিত হয় বৈশ্বিক বাণিজ্য। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরবরাহ সংযোগের প্রভাবের দিকে দৃষ্টি দিলে এটা সহজেই বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

আঙ্কটাড জানায়, অন্যান্য অঞ্চল বিশেষ করে পূর্ব এশিয়া ও মেক্সিকোয় ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ কোম্পানিগুলোর সরবরাহ চেইনকে প্রভাবিত করছে।