গত অর্থবছর শেষে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭০ কোটি ডলার বা ৪২৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইয়েন। গতকাল প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়। মূলত বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ব্যবসার পুনর্গঠনে ৯০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে কোম্পানিটি। খবর রয়টার্স।

হোন্ডা জানায়, কোম্পানিটির ইভি-সংক্রান্ত লোকসান সব মিলিয়ে ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হোন্ডা সঠিক সময়ে সঠিক বাজার ধরতে পারেনি। অনেক বাজার যখন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির জন্য প্রস্তুত ছিল না, তখনই হোন্ডা হয়তো খুব দ্রুত বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলে। ফলসরূপ প্রতিষ্ঠানটির অনেক ইভি মডেলের পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়। এমনকি সনি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়ি তৈরির উদ্যোগ থেকেও সরে এসেছে কোম্পানিটি।

হোন্ডার এ লোকসানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রো-ইউএস’ বা যুক্তরাষ্ট্র-বান্ধব নীতিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। ট্রাম্প প্রশাসন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির জন্য দেয়া সরকারি সুবিধা বা ইনসেনটিভ প্রোগ্রামগুলো কমিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে চার্জিং স্টেশন তৈরির জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে তহবিল দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া আমদানীকৃত গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক হোন্ডার মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গাড়ি বিক্রিতে লোকসান হলেও হোন্ডার মোটরসাইকেল ব্যবসা বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া গত অর্থবছরে হোন্ডা বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ২১ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে ভারতের মতো বাজারগুলোয় হোন্ডার মোটরসাইকেল বেশ জনপ্রিয়। এ সাফল্যের কারণে কোম্পানির মোট বিক্রি কিছুটা বেড়ে ২১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে ।

হোন্ডার প্রধান নির্বাহী তোশিহিরো মিবে জানান, তারা এখন শুধু বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নয়, বরং হাইব্রিড ও সাধারণ পেট্রলচালিত গাড়ির ওপরও গুরুত্ব দেবেন। তবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছেন না । ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে কোম্পানিটি ফের মুনাফায় ফেরার আশা করছে। পাশাপাশি বড় অংকের লোকসানের দায় নিয়ে পদত্যাগ করবেন কিনা, এমন প্রশ্নে মিবে জানান, তিনি আগে কোম্পানিকে আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনতে চান।