একদিকে নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক মন্দার উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাসের আভাস মিলেছে। ফলে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার চাঙ্গা হয়ে ওঠে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের কঠোর মুদ্রানীতি শিথিল করতে পারে বলে প্রত্যাশা করছিলেন বিশেষজ্ঞরা, কিন্তু ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এবং দুর্বল অর্থনীতির চিত্র এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঝুঁকি প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স এবং আইএমএফের প্রধান ক্রিলিলিনা জর্জেয়েভা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অগ্রসর অর্থনীতির কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। এ হুঁশিয়ারির পর ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কঠোর মুদ্রানীতির কারণে বিশ্বব্যাপী যে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এসব দেশে ঋণ পরিশোধসংক্রান্ত সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প উৎপাদনসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গিয়েছে, দেশটিতে শিল্প উৎপাদন আশঙ্কার চেয়েও বেশি কমেছে। এতে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে ধাতব পণ্যের বাজার। বিশেষ করে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম গত সপ্তাহে ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৫ ডলারে।
ইনস্টিটিউট ফর সাপ্লাই ম্যানেজমেন্ট জানায়, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে শিল্প উৎপাদন পিএমআই অপ্রত্যাশিতভাবে কমে ৫০ দশমিক ৯ পয়েন্টে নেমেছে, যা ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
এদিকে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে রুপা, প্যালাডিয়াম ও প্লাটিনামের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে রুপার দাম ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, প্যালাডিয়ামের ১ দশমিক ৩ ও প্লাটিনামের ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যান্য ধাতব পণ্যের মধ্যে তামার দাম এ সময় অপরিবর্তিত ছিল। তবে সিসার দাম ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৭ দশমিক ৫, নিকেলের দাম ৫ দশমিক ৩ এবং দস্তার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ। ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা জানান, সম্প্রতি রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোট ওপেক প্লাস জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল করে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নভেম্বর থেকে যা কার্যকর হবে। এ ঘোষণার পর থেকেই ব্রেন্টের বাজার ঊর্ধ্বমুখী।
এদিকে ওপেকের এ ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কৌশলগত মজুদ থেকে আরো এক কোটি ব্যারেল জ্বালানি তেল উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী মাসে এসব তেল উন্মুক্ত করা হবে। ব্রেন্টের দাম বাড়লে গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে কৃষিপণ্যের বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। নিমেক্সে গমের দাম ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং চালের দাম ২ শতাংশ কমেছে। তবে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম যথাক্রমে দশমিক ৮ শতাংশ ও দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে তুলার দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে কফির দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। কোকোর দাম ১ দশমিক ৯ এবং চিনির দাম ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।










