ভারত ভোজ্যতেল বিশেষ করে পাম অয়েল আমদানিনির্ভর দেশ। ২০২১-২২ মৌসুমে দেশটির পাম অয়েল আমদানি প্রায় ৯ শতাংশ কমে যেতে পারে। এ খাতের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রয়টার্সকে জানায়, দেশীয় সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানির ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে ভারত। বাজার চাঙ্গা থাকায় এ বছর দেশটির কৃষকরা লক্ষণীয় মাত্রায় তেলবীজটির আবাদ বাড়িয়েছেন। ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে।
বৈশ্বিক পাম অয়েল উৎপাদন ও রফতানিতে মালয়েশিয়া দ্বিতীয়। ভারতের আমদানীকৃত পাম অয়েলের বড় একটি অংশ আসে দেশটি থেকে। আগস্টে দেশটির বাজার আদর্শ পাম অয়েলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। বাজারদরে এমন ঊর্ধ্বমুখিতায় ভারত পাম অয়েল আমদানি কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে।
নভেম্বরে ভারতে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শুরু হবে। নতুন মৌসুমে দেশটি ৭৬ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করতে পারে। চলতি মৌসুম শেষে মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়তে পারে ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টনে। সে হিসাবে আমদানি ৯ শতাংশ কমবে। জিজি প্যাটেল অ্যান্ড নিখিল রিসার্চ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোবিন্দভাই প্যাটেল এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্যাটেলের প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে পাম অয়েল বাণিজ্যে যুক্ত। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের নেতৃস্থানীয় পাম অয়েল ক্রেতা দেশ। আসন্ন মৌসুমে দেশটির নিম্নমুখী পাম অয়েল আমদানি মোট ভোজ্যতেল আমদানিতে প্রভাব ফেলবে। চলতি মৌসুমে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি ১ কোটি ৩৭ লাখ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আসন্ন মৌসুমে আমদানি কমে ১ কোটি ৩৩ লাখ টনে নেমে আসতে পারে।
ভারত প্রধানত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল ক্রয় করে। এছাড়া সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। দেশটি সূর্যমুখী তেল আমদানি করে ইউক্রেন থেকে।
প্যাটেল বলেন, ভারতে সয়াবিন ও সরিষা উৎপাদন বেড়েছে। ফলে আগামী মৌসুমে দেশীয় বাজারে সরবরাহ ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের বাজারে সয়াবিন ও সরিষা তেলবীজের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। ফলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকরা অন্যান্য কৃষিপণ্যের পরিবর্তে তেলবীজ উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
প্যটেলের ভাষ্যমতে, ভারতে নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউনসহ নানা বিধিনিষেধের কারণে কমে যায় ভোজ্যতেলের ব্যবহার। তবে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ব্যবহার ২ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ১৮ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকায় হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ছে।










