বেনাপোল কাস্টমস পাথর আমদানি কমিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট ডেকেছেন পেট্রাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীরা। পেট্রাপোলের ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘটে বেনাপোল বন্দরে ৯ ঘণ্টা আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ ছিল। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছিল এ ধর্মঘট। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট তুলে নেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রায় দেড়শ ট্রাক পাথর আমদানি হয়ে আসছিল। কিন্তু বন্দরে পাথর খালাসের জন্য জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীরা বন্দরের বাইরে লোকালয়ে পাথর খালি করছিলেন। এতে ভারতীয় ট্রাকচালকরা সেখানে অবাধে চলাফেরায় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনে করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ তোলে এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে দিনে ৩০ ট্রাক পাথর বন্দরে প্রবেশ করবে সিদ্ধান্ত দেয়। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল সকালে ধর্মঘট ডেকে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেন। পরে আলোচনায় পাথর প্রবেশের সংখ্যা কিছু বাড়ানো হবে এমন আশ্বাসে বিকালে ধর্মঘট তুলে নিলে পুনরায় বাণিজ্য শুরু হয়।

পাথর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রূপালী এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি রাজিব জানান, দেশের উন্নয়নকাজে এ পাথর ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরে পাথর খালাস করতে দিচ্ছে না, আবার কাস্টমস বন্দরের বাইরে নামাতে নিষেধ করছে। এতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাথরের সব ট্রাক বেনাপোল বন্দরে ঢুকতে না দিলে তারা অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেবেন না। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এমন আচরণে বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, সম্প্রতি সীমান্তে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। প্রতিদিন আক্রান্তের হার বাড়ছে। এ অবস্থায় বন্দরের বাইরে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে লোকালয়ে ভারতীয় ট্রাকচালকরা পাথর খালি করায় এ ঝুঁকি আরো বাড়ছিল। ফলে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বন্দর দিয়ে কিছুদিনের জন্য পাথরবাহী ট্রাক প্রবেশের সংখ্যা কমানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ইমদাদুল হক লতা জানান, প্রতি বছর এ বন্দর থেকে সরকারকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দেয়া হয়। কিন্তু বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় মারাত্মকভাবে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। জায়গার অভাবে কখনো বাণিজ্য বন্ধ থাকছে আবার কখনো খোলা আকাশের নিচে পণ্য রাখায় রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী সুবিধাবঞ্চিত হয়ে এ বন্দর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য বন্দরে। ফলে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা হারে রাজস্ব আসছে না।