কভিড-১৯ মহামারী ধাক্কা সামলে গতিশীল হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে দেশে বাড়ছে চালের চাহিদা। কিন্তু বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভোক্তা দেশগুলোকে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর ও নিম্ন আয়ের দেশগুলো বেশি বিপাকে। বৈরী আবহাওয়ায় চালের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাবে এশিয়ার বাজারে অব্যাহত বাড়ছে চালের দাম। চলতি সপ্তাহে এ অঞ্চলের শীর্ষ দেশগুলোয় চালের রফতানি মূল্য বেড়ে দুই বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
চলতি সপ্তাহে ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৪৯৫-৫০৫ ডলার মূল্যে রফতানি করছে। ২০২১ সালের এপ্রিলের পর এটিই সর্বোচ্চ দাম। গত সপ্তাহে দেশটি এ জাতের প্রতি টন চাল রফতানি করেছিল ৪৯৮ ডলার মূল্যে।
হো চি মিন সিটিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ সংকটে ভিয়েতনামের স্থানীয় বাজারে অব্যাহত বাড়ছে চালের দাম। এ কারণে রফতানিকারকরা তাড়াহুড়ো করে চাল রফতানি করছেন। উদ্দেশ্য দাম আরো বাড়ার আগে রফতানি চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ সম্পন্ন করা। বৈরী আবহাওয়ায় গ্রীষ্ম ও শরৎকালীন উৎপাদনও এবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়বে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
শুল্ক বিভাগের তথ্য বলছে, ভিয়েতনাম জুনের প্রথমার্ধে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৮ টন চাল রফতানি করেছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রফতানি করা হয়েছে ৩৯ লাখ টন। বার্ষিক চাল রফতানি লক্ষ্যমাত্রা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিয়েতনাম। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি রফতানির পরিমাণ ৪০ লাখ টনে নামিয়ে আনবে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় অন্তত ৪৪ শতাংশ কম। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে দেশটির সরকার তথ্যটি নিশ্চিত করে।
ভিয়েতনাম বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক। ভারত ও থাইল্যান্ডের পরই দেশটির অবস্থান। গত বছরও দেশটি ৭১ লাখ টন চাল রফতানি করেছে। তবে আগামী বছরগুলোয় রফতানি এর চেয়ে অনেক কমিয়ে আনা হবে। উদ্দেশ্য স্থানীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি উচ্চমানসম্পন্ন চাল রফতানি বাড়ানো।
এদিকে থাইল্যান্ড চলতি সপ্তাহে প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ৫০৫ ডলারে রফতানি করছে। দেশটির চালের দামও দুই বছরের সর্বোচ্চে। গত সপ্তাহে রফতানি করা হয়েছিল ৪৯৫ ডলারে।
ব্যাংককভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, রফতানিকারকরা পর্যাপ্ত সরবরাহ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে এখনো নতুন চাল ঢোকেনি। ফলে রফতানিকারকরা ঠিক সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারছেন না। স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ায় রফতানি মূল্য আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জানুয়ারি-মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে থাইল্যান্ড ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টন চাল রফতানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বৈদেশিক বাজারে উচ্চ চাহিদা ও থাই মুদ্রা বাথের মূল্যমান দুর্বল হয়ে যাওয়ায় রফতানি বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রয়টার্সের প্রকাশিত খবরে বলা হয়, আগের বছরের তুলনায় শুধু মে মাসে চাল রফতানি ৮৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার টন হয়েছে। ২০২৩ সালে মোট রফতানি ৮০ লাখ টনে গিয়ে ঠেকতে পারে। ফলে রফতানির পরিমাণ মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছাপিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব ও এশিয়ার শীর্স চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। চলতি সপ্তাহে দেশটি প্রতি টন ভাঙা সেদ্ধ চাল ৩৯৭-৪০৫ ডলারে রফতানি করছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ রফতানি। গত সপ্তাহে রফতানি মূল্য ছিল ৩৯০-৩৯৮ ডলার।
ভারতে ধানের দাম বাড়ছে। এ কারণে রফতানিকারকরা চালের রফতানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। চলতি মাসে ভারতের মুদ্রা রুপির বিনিময় মূল্য বেড়েছে। ফলে চালের ওপর আরো ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। ভারত সরকার সম্প্রতি কৃষকদের থেকে ধান ও চাল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে। এক্ষেত্রে ধান-চালের দাম আগের তুলনায় ৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের গ্লোবাল ফুড আউটলুক শীর্সক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ বিপণন মৌসুমে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টনে।










