১৯-২০ সেপ্টেম্বরের নীতিনির্ধারণী সভায় সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক (ফেড)। সম্ভবত ২০২৪ সালের এপ্রিল-জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে। যদিও ফেডের চেয়ার জেরোম পাওয়েল আগস্টে সুদহার বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে অন্য সদস্যরা সুদহার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি অর্থনীতিবিদদের নিয়ে করা রয়টার্স জরিপে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বেশ কয়েকজন সদস্য অর্থনীতিতে বিদ্যমান প্রভাব বিবেচনায় নতুন করে সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে নাকচ করেছেন। রয়টার্সের পুলে অংশ নেয়া ৯৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ পূর্বাভাস দিয়েছেন, ফেড সুদহার বর্তমান ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখবে। এর পরও কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ সুদহার বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ব্রেট রায়ান বলেছেন, ‘‌আমরা আশা রাখি ২০ সেপ্টেম্বরের এফওএমসি সভায় সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হবে। তবে ফেড যদি সুদহার আরো এক ধাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। মূল্যস্ফীতিতে এর মধ্যেই সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।’

ফেডের সিদ্ধান্ত কিছুটা নির্ভর করবে আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশের ওপর। রয়টার্সের পুলে গত মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, জুলাইয়ে যা বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার আগস্টে বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আরেক দফা সুদহার বৃদ্ধি দেখতে চায় না প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, বেকারত্বের হার চলতি বছরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে স্থির থাকতে পারে। ২০২৪ সালে দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে। বাসা বিক্রি ও ভাড়া ঊর্ধ্বমুখী থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধারণা করা হচ্ছে, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে।

জরিপে অংশ নেয়া ৮৭ জন অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। ২৮ জন মনে করেন বছরের প্রথম প্রান্তিকে এবং ৩৩ জন মনে করেন দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমানো হতে পারে সুদহার। কেবল একজন অর্থনীতিবিদ চলতি বছরেই সুদহার কমানোর ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশ নেয়া ৭০ শতাংশ মনে করেন, সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে জুনের পরে। তবে এটাও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, হয়তো ফেডের সুদহার কমানোর ঘোষণা প্রত্যাশিত সময়ের চেয়েও আরো দেরিতে আসবে। মার্কিন অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু হোলেনহোর্স্ট বলেছেন, ‘‌মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজার ও আবাসন খাতে। নীতিনির্ধারকরা সুদহার ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্থির রাখতে পারেন।’ 

অর্থনৈতিক মন্থরতাই কেবল ফেডের সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কিন্তু তা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

 চলতি বছরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ শতাংশ। আগামী বছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে দশমিক ৯ শতাংশ। হোলেনহোর্স্ট বলেছেন, ‘‌আমাদের ধারণা আগামী বছরের প্রথমার্ধে মন্থরতা দেখা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে। আর সেটা হলে ফেড দ্বিতীয় প্রান্তিকে সুদহার কমাবে। কিন্তু উচ্চ সুদহার স্থির থাকা কিংবা সুদহার কমানোর ঘোষণা আসতে বিলম্ব করার ঝুঁকি একেবারে দূর হয়ে যাচ্ছে না।