রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পর সমুদ্রপথে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি অব্যাহত বাড়ছে। আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটি কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দর দিয়ে ৩০ লাখ টনেরও বেশি খাদ্যশস্য রফতানি করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ইস্তানবুলের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ইউক্রেন। গত ২২ জুলাই এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণ সাগরীয় তিনটি বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য রফতানি শুরু করে ইউক্রেন।

তথ্য বলছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে স্থল, জল ও বিমানপথে একযোগে হামলা চালায়। এ সময় রুশ সেনারা ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরগুলো দখল করে ফেলে। এছাড়া বন্দরগুলোয় মাইন পুঁতে রাখার অভিযোগও উঠেছে রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে। এ অবরোধের কারণে সমুদ্রপথে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। দেশটি পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে স্থল, রেল ও নদীপথে অত্যন্ত স্বল্প পরিমাণ শস্য রফতানিতে বাধ্য হয়।

ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশ। দেশটি রফতানি বাজার থেকে ছিটকে পড়ায় বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যের ভয়াবহ সংকট দেখা দেয়। ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে দাম। মার্চে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরোহণ করে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির পর রফতানিতে আবারো গতি ফিরেছে।

রফতানি তদারকি করতে ইস্তানবুলে একটি জয়েন্ট কো-অর্ডিনেশন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এতে কাজ করছেন তিনটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ কর্তাব্যক্তিরা ও জাতিসংঘ। সেন্টারটি ইউজনি, চরনোমর্স্ক ও ওডেসা বন্দরের রফতানি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েফ এরদোগানের শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ চুক্তি সম্ভব হয়েছে। চুক্তির আওতায় ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেন ৩২ লাখ ৫০ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছে।

চুক্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৪৪টি জাহাজ রফতানির উদ্দেশে খাদ্যশস্য নিয়ে ইউক্রেনের বন্দর ছেড়ে গিয়েছে। এছাড়া ১৬১টি খালি জাহাজ শস্যবোঝাই করতে ইউক্রেনের বন্দরগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত ১১টি জাহাজ ইস্তানবুল শস্য রফতানি চুক্তির আওতায় বন্দর ছেড়ে গিয়েছে।

রাশিয়ার হামলার আগে প্রতি মাসে ইউক্রেন ৫০-৬০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করত। কিন্তু যুদ্ধের পর মাসভিত্তিক রফতানির পরিমাণ ১০ লাখ টনে নেমে আসে। তবে চুক্তির পর আবার আগের মতো রফতানির সম্ভাবনা দেখছে দেশটি।